গ্রামের শিউলি গাছতলায় সন্ধের আলো গাঢ় হচ্ছে। রূপার শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে মিতালি। বাতাসে ভেসে আসছে দূরের ঢাকের শব্দ। হঠাৎ কাঁপা কণ্ঠে কেউ ডাকে— “মিতালি...”। পরিচিত কণ্ঠ, অথচ বহু বছর বাদে শোনা।
মিতালি ঘুরে তাকায়। ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসছে অর্ণব। চোখে অদ্ভুত আলো। শৈশবের বন্ধু, প্রথম প্রেম, অথচ হঠাৎই সে শহরে হারিয়ে গিয়েছিল। আজ এত দিনে আবার সামনে! বুক ধকধক করছে মিতালির।
অর্ণব থেমে যায় কয়েক কদম দূরে। তার চোখে অপরাধবোধ আর আকুলতা মিশে আছে। “তুমি কি... আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?”—কথাটা ঝরে পড়ে। মিতালি শুধু তাকিয়ে থাকে, উত্তর গোপন রয়ে যায় ঠোঁটের কোণে।
মেলা-আলোয় চারপাশ ঝলমল করছে, অথচ দুজনার মাঝে এক ভয়ানক নীরবতা। মিতালি মনে পড়ে—একদিন ঠিক এমন রাতে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল, অর্ণব ছাড়া কারও হাত ধরবে না। প্রতিজ্ঞা আজও অটল, নাকি ভেঙে গেছে?
অর্ণব হঠাৎ এগিয়ে এসে মিতালির হাতে ছুঁয়ে দেয় আঙুল। তীব্র কাঁপন ছড়িয়ে যায় শরীরে। “যত ভুল করেছি, সব শোধরাতে চাই।” মিতালি ধীরে হাত সরিয়ে নেয়। চোখে জল চিকচিক করে ওঠে।
“আমাকে এত সহজে বিশ্বাস করা যাবে?”—মিতালির প্রশ্ন কাঁটার মতো বিঁধে যায়। চারপাশের ঢাক-ঢোল থেমে আসে যেন। অর্ণবের মুখে ভেসে ওঠে অসহায় হাসি। সে শুধু বলে—“আমার হৃদয় এখনও তোমার নামেই ধ্বনিত।”
মিতালির চোখে ভেসে ওঠে পুরোনো চিঠি, ভেজা কাগজে লেখা অর্ণবের স্বপ্ন। রাতের আকাশে ফানুস উড়ছে। নিঃশ্বাস আটকে সে বলে—“শেষ সুযোগ দিলাম।” অর্ণব হাত বাড়ায়। মিলিয়ে যায় ভিড়ের কোলাহলে এক নতুন সূচনা।