বর্ষার সন্ধ্যায় শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ভিড়ের মাঝে হঠাৎ চোখে পড়ে গেল সেই চেনা মুখ। বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক নাম, এক গল্প, এক অপূর্ণ ভালোবাসা—সবকিছু এক মুহূর্তে আবার নিঃশ্বাস নিতে শুরু করল।
তখন কলেজ স্ট্রিটের পুরনো বইয়ের দোকানে প্রথম আলাপ। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠত, কথার মাঝে স্বপ্ন। কিন্তু সমাজ, দায়িত্ব আর ভয়—সব মিলিয়ে তারা ভালোবাসাকে চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছিল।
আজ এত বছর পর, ভেজা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দু’জনেই চুপ। ট্রেনের হুইসেলের শব্দে বুক কেঁপে ওঠে। বলা হয়নি এমন কথা, বলা উচিত ছিল এমন সত্য—সবকিছু চোখের ভাষায় জমে রইল।
সে জানায়, সংসার আছে, দায়িত্ব আছে, তবু কোথাও এক ফাঁকা বিকেল আজও তার নাম ধরে ডাকে। আমি শুনি, আর বুঝি—সময় বদলালেও কিছু অনুভূতি কখনো বুড়ো হয় না।
হঠাৎ ট্রেন আসে। আলো, শব্দ, তাড়া। উঠবে কি উঠবে না—এই প্রশ্নে কয়েক সেকেন্ড থমকে যায় জীবন। হাত বাড়ে, আবার থেমে যায়, সিদ্ধান্তের ওজন অসহ্য হয়ে ওঠে।
শেষমেশ সে ট্রেনে ওঠে। জানালার ধারে দাঁড়িয়ে শুধু একবার তাকায়। কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, কোনো অভিযোগ নয়—শুধু একরাশ নীরবতা, যা হাজার কথার চেয়েও বেশি বলে।
ট্রেন হারিয়ে গেলে প্ল্যাটফর্ম ফাঁকা হয়ে যায়। আমি হাঁটতে হাঁটতে বুঝি—কিছু প্রেম পাওয়ার জন্য নয়, মনে গেঁথে থাকার জন্য আসে। সেই ভালোবাসাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে গভীর প্রাপ্তি।