এই রোমান্টিক বাংলা গল্পটি দুইজন অধ্যাপক, সোহিনী এবং আদিত্যের প্রেমের গল্প, যাদের পরিচয় ইমেলের মাধ্যমে। সাহিত্য এবং গবেষণা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব গভীর হয় এবং বটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজের মতো তাদের প্রেম ফুটে ওঠে। এই গল্পটি ইমেলের মাধ্যমে প্রেমের সম্ভাবনা এবং বাস্তব জীবনে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের সৌন্দর্য তুলে ধরে।

ঈ-মেইলের অসীম প্রান্তরে

এই রোমান্টিক বাংলা গল্পটি দুইজন অধ্যাপক, সোহিনী এবং আদিত্যের প্রেমের গল্প, যাদের পরিচয় ইমেলের মাধ্যমে। সাহিত্য এবং গবেষণা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বন্ধুত্ব গভীর হয় এবং বটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজের মতো তাদের প্রেম ফুটে ওঠে। এই গল্পটি ইমেলের মাধ্যমে প্রেমের সম্ভাবনা এবং বাস্তব জীবনে বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের সৌন্দর্য তুলে ধরে।

সোহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফটেরিয়ায় বসে ঢুকছিলেন একটি ঠান্ডা কফি হাতে নিয়ে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এক অদ্ভুত উত্তেজনা তাঁর মধ্যে কাজ করছিল। কারণ, বিভাগের ওয়েবসাইটে তাঁর নতুন গবেষণাপত্র, “বাঙালি নারীবাদ” শীর্ষক নিবন্ধটি জমা দেওয়ার সে একটি ইমেল পেয়েছিল।  ইমেলটি লিখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নতুন অধ্যাপক আদিত্য সেন।

আদিত্যের ইমেলটি ছিল প্রশংসায় ভরা। তিনি সোহিনীর নিবন্ধটির প্রশংসা করেছিলেন, বিশেষ করে বাঙালি নারীরা কীভাবে ইমেলের মাধ্যমে নিজেদের কণ্ঠস্বরকে জানান দিচ্ছে, সেই বিষয়টি তিনি কতটা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন, সেটা উল্লেখ করেছিলেন। সোহিনী খুশিতে উৎফুল্ল্য ছিল। সে জানত, তাঁর এই গবেষণা অনেকের কাছেই নতুন, কিন্তু আদিত্যের প্রশংসা তাঁকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করল। সে আদিত্যকে একটি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ইমেল পাঠাল।

আদিত্যের জবাব আসতে বেশ কিছুদিন লেগেছিল। কিন্তু যখন এলো, তখন তা ছিল সোহিনীর কাছে এক আনন্দের ঝর্ণা। আদিত্য তাঁর নিজের গবেষণার কথা লিখেছিলেন, যা ঔপনিষদিক চিন্তাধারার প্রেক্ষিতে বাংলা কাব্যে নারী চরিত্রের বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। সোহিনী মুগ্ধ হয়েছিল। সে আদিত্যের গবেষণাপত্র পড়তে চাইল এবং তাঁকে নিজের কিছু গবেষণা সামগ্রী পাঠিয়ে দিল।

এরপর শুরু হলো ইমেলের অবিরাম আদানপ্রদান। সাহিত্য, গবেষণা, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনের ছোটখাটো অভিজ্ঞতা – সবকিছুই তারা একে অপরের সাথে ভাগ করে নিতে লাগলো । সোহিনী জানতে পারল, আদিত্য ছেলেবেলা থেকেই বইয়ের পৃথিবীতে নিজেকে হারিয়ে ফেলা একজন নিঃসঙ্গ প্রাণ। আবার, আদিত্য জানলেন সোহিনী ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পরিবারের মেয়ে হলেও কতটা আধুনিক চিন্তাধারার।

দিন যত কেটে গেল, ততই তাঁদের মধ্যে একটা অদ্ভুত বন্ধন গড়ে উঠল। জেন আইয়ারের প্রতি তাঁদের দুজনেরই অগাধ ভালোবাসা, সিমোন দ্য বোভয়ারের লেখা নিয়ে জমজমাট বিতর্ক, রবীন্দ্রনাথের নারী চরিত্র নিয়ে চিন্তাভাবনা এসব আলোচনার মধ্যে সোহিনী লক্ষ্য করলেন, আদিত্যের লেখায় একটা সাবধানতা ঢুকে পড়েছে। শুরুর দিকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা খোলামেলাভাবে লিখতেন, কিন্তু এখন যেন একটা দেওয়াল টানা পড়েছে তাঁদের মাঝে। একদিন সাহস করে সোহিনী জিজ্ঞাসা করলেন, “আদিত্যবাবু, আপনিকি কোনো একটা বিষয়ে চিন্তিত আছেন?”

আদিত্যের জবাব এলো দেরিতে। লিখেছিলেন, “কী যে বলব, সোহিনী। ইমেলের মাধ্যমে এত দূরত্ব থেকে সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, ভাবিনি কখনো। কিন্তু ভয় হয়, এই পর্দার ওপাশে আপনি কে, তা জানি না।”

সোহিনী বুঝতে পারল, আদিত্যের কথা সত্যি। ইমেলের দুনিয়ায় তাঁরা দুজনেই একটা আদর্শ কাঠামো তৈরি করে ফেলেছেন নিজেদের নিয়ে। কিন্তু বাস্তবে কেমন, তা জানা দরকার। একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সোহিনী লিখল, “আদিত্যবাবু, কী মনে হয় আমরা একবার দেখা করতে পারি? বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই যে নতুন কফি শপটা খুলেছে, সেখানে?”

আদিত্যর জবাব আসতে একটা দিন লেগে গেল। কিন্তু যখন এলো, তখন সোহিনীর হৃদপিণ্ডটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল। “আসব, অবশ্যই আসব।”

নির্ধারিত দিনে সোহিনী কফি শপটার জানলায় চোখ রাখতে রাখতে অস্থির হয়ে উঠছিলেন। হঠাৎ একজন লম্বা, চশমা পরা, বইয়ের পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসা মতো ছেলে এসে দাঁড়ালেন তাঁর টেবিলে। আদিত্য!

বাস্তবেও তিনি ঠিক ততোটাই মনে হলেন সোহিনীকে। মৃদু হাসি আর একটু সঙ্কোচের ছায়া।

“কেমন আছো, সোহিনী?”

“আমি ভালো। আপনি?”

এরপর শুরু হলো আড্ডা। ইমেলের বাইরেও তাঁদের গল্পের ধারা অব্যাহত রইল। সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, পছন্দের লেখকদের কথা, এমনকি ছোটবেলার স্মৃতিও ভাগ করে নিলেন তারা। সময় যেন থেমে গেল।

কফি শেষ হয়ে গেলেও তাঁরা দুজনেই উঠতে পারছিলেন না। শেষে আদিত্যই ভদ্রতা দেখিয়ে বললেন, “এত রাত হয়ে গেল, তোমাকে  বাড়ি পৌঁছে দিতে হয়।”

বাড়ির পথে আসতে আসতে সোহিনী লক্ষ্য করলেন, আদিত্যের চোখে একটা নতুন আবেগের ঝিলিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে এসে দাঁড়াল তারা।

“আজকের দিনটা খুব ভালো লাগলো, সোহিনী।” আদিত্যর কণ্ঠে একটা কাঁপা ভাব।

সোহিনীও একই কথা বলতে চাইল, কিন্তু কথাগুলো গলায় আটকে গেল। এই অচেন, অথচ মনের কাছাকাছি কোথাও বাস করা এই মানুষটার সামনে এখনও অনেক কিছু অভিব্যক্ত করার বাকি ছিল তাঁর। চোখেমুখে এমন কাছাকাছি আসাটাও তাঁকে একটু সঙ্কিত করে দিচ্ছিল।

“আমারও,” শেষমেশ কষ্টেসৃষ্টে বললেন সোহিনী। নিজের হাতটা আলতো করে সরিয়ে নিলেন আদিত্যের দৃষ্টিপথ থেকে।

আদিত্য একটু থেমে বললেন, “আমরা কি আবার দেখা করতে পারি, সোহিনী?”

সোহিনী মাথা নীচু করে বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই।”

বিদায় জানিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল সোহিনী। মনের মধ্যে একটা ঝড় চলছিল। এই কয়েক ঘণ্টায় আদিত্যকে আরও কাছ থেকে জানতে পেরেছিল সে। তাঁর চোখের দৃষ্টিতে একটা আন্তরিকতা ছিল, যা ইমেলের পর্দার ওপার থেকে অনুভব করা যায়নি। কিন্তু তবুও একটা প্রশ্ন তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। এই দেখা কি শুধুই বন্ধুত্বের সীমায় আটকে থাকবে? না কি, আরও একটু এগিয়ে যাবে?

পরের কয়েকদিন এমনই একটা অস্থিরতায় থাকলেন সোহিনী। আদিত্যর কাছ থেকে কোনো ইমেল না আসায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল। কিন্তু ঠিক এক সপ্তাহ পরে, আদিত্যর ইমেল এলো।

“সোহিনী,” লিখেছিলেন তিনি, “আমার কাছে তোমাকে বলার মতো কিছু আছে। কিন্তু ইমেলের মাধ্যমে তা বলা ঠিক বলে মনে হচ্ছে না। আপনি কি আবার দেখা করতে পারবে?”

সোহিনীর চোখ জ্বলজ্বলিয়ে উঠল। তিনি তাড়াতাড়ি জবাব লিখল, “নিশ্চিতভাবেই। কোথায় আর কখন?”

আদিত্য লিখলেন, “পুরোনো বটানিক্যাল গার্ডেন, রবিবার সকাল দশটা?”

সোহিনী হাসলেন। সেই জায়গাটি তাঁদের দুজনেরই কৈশোরের স্মৃতি বয়ে বেড়েছে। নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ কথাই আছে আদিত্যর বলার। রবিবারের দিন সকালে বটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়ার জন্য উত্তেজনা আর আশঙ্কা দুটোই মিশে ছিল সোহিনীর মনে।

রবিবারের সকালে বটানিক্যাল গার্ডেনে ঢুকেই সোহিনীর চোখ আটকে গেল। বিশাল জাকারান্ডা গাছটির নিচে, কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলেন আদিত্য। হাতে ছিল একগুচ্ছ লাল গোলাপ।

সোহিনী কাছে যেতেই আদিত্য উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখে একটা উত্তেজনা ঝলমলে ছিল।

“তুমি এলে, সোহিনী!”

“হ্যাঁ, এলাম।” সোহিনী হালকা হাসলেন।

আদিত্য গোলাপগুলো সোহিনীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন, “তোমার জন্য।”

সোহিনী অবাক হয়ে গোলাপগুলো নিলেন। গোলাপের সুগন্ধ তাঁকে মুগ্ধ করে দিল।

“কেন?”

“তোমাকে জানাতে চাই, এই ইমেলের অসীম প্রান্তরে আপনার আবির্ভাব আমার জীবনে এক নতুন সকাল এনেছে। সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গবেষণা – এসবের চেয়েও বেশি মিস করতাম তোমার সঙ্গ।”

আদিত্য একটু থেমে বললেন, “আপনি যখন আমাদের দেখা করতে বলেছিলেন, সেদিন বুঝতে পারলাম – আপনার প্রতি আমার অনুভূতি শুধুই বন্ধুত্বের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমি তোমাকে ভালোবাসি, সোহিনী। “

সোহিনী নিঃশব্দে গোলাপগুলো নিবিড় করে ধরলেন। তাঁর মনের মধ্যেও এক ঝড় উঠেছিল। আদিত্যর কথাগুলো তাঁর বুকে এক অদ্ভুত তৃপ্তি এনে দিয়েছিল। ইমেলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কটা কি এতদূর এগিয়ে গেল? কিন্তু কোনো দ্বিধা ছিল না তাঁর মনে। তাঁর হৃদয়ও একই কথা বলছিল।

একটু পরে, সোহিনী আস্তে করে মাথা বাড়িয়ে দিল। “আমিও, আদিত্যবাবু।” তাঁর কণ্ঠে একটা কমনীয় কাপা ছিল।

আদিত্যর চোখে খুশির আলো ঝলমলে লেচে উঠল। তিনি সোহিনীর হাতটা ধরলেন, “এই বটানিক্যাল গার্ডেনের স্মৃতির মতোই, আমাদের এই প্রেমও চিরকাল সবুজ থাকবে, সোহিনী, বিশ্বাস করো।”

সোহিনীর ঠোঁটে একটা হাসি ফুটে উঠল। হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন আদিত্য। ইমেলের অসীম প্রান্তরে শুরু হওয়া এই প্রেম, এখন বটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজের মতোই সতেজ, সজীব। এই প্রেমের গল্প লিখবে না হয়তো কোনো গবেষণাপত্র, কিন্তু তা তাঁদের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!