সূর্য, একজন সাধারণ মানুষ, জাদুঘরে ঘুরতে ঘুরতে এক অদ্ভুত মূর্তির স্পর্শে স্বর্গে চলে যান। সেখানে রিয়া নামের এক রহস্যময়ী নারীর সাথে দেখা হয় তার। রিয়া সূর্যকে দেখায় স্বর্গের অপার সৌন্দর্য, চিরকালের প্রেমের স্বপ্ন। কিন্তু কিছুদিন পর সূর্য বুঝতে পারে, স্বর্গের একঘেয়ে জীবন তার জন্য নয়। সে ফিরে চায় তার পৃথিবীতে, তার পরিবার, বন্ধুদের কাছে। রিয়া কি সূর্যকে ফিরে যেতে দেবে? জানতে হলে পড়ুন এই রোমান্টিক গল্প "স্বর্গের চুম্বন"।

স্বর্গের চুম্বন

সূর্য, একজন সাধারণ মানুষ, জাদুঘরে ঘুরতে ঘুরতে এক অদ্ভুত মূর্তির স্পর্শে স্বর্গে চলে যান। সেখানে রিয়া নামের এক রহস্যময়ী নারীর সাথে দেখা হয় তার। রিয়া সূর্যকে দেখায় স্বর্গের অপার সৌন্দর্য, চিরকালের প্রেমের স্বপ্ন। কিন্তু কিছুদিন পর সূর্য বুঝতে পারে, স্বর্গের একঘেয়ে জীবন তার জন্য নয়। সে ফিরে চায় তার পৃথিবীতে, তার পরিবার, বন্ধুদের কাছে। রিয়া…

বিকেলের আলোয় ভরা জাদুঘরে ঢুকে সূর্য এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা অনুভব করল। প্রতিটি মূর্তি যেন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে, অতীতের গল্প ফিসফিসিয়ে বলছে। এক কোণে, মৃদু আলোয় সজ্জিত প্রদর্শনী কক্ষে দুটি মূর্তি চোখে পড়লো সূর্যের। এক জোড়া যুগল মূর্তি, আঁকড়া অবস্থায়, যেন জগতের সবকিছু ভুলে একে অপরের মধ্যেই হারিয়ে গেছে।

সূর্যের পাশেই দাঁড়িয়ে এক মৃদু কণ্ঠস্বর ভেসে এল, “কেমন লাগছে?”

চমকে ফিরে তাকাল সূর্য। সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণী, চোখে অদ্ভুত এক জোৎস্না ঝলমল চমক, আর ঠোঁটে মৃদু হাসি।

“আপনি…” সূর্য কথা শেষ করতে পারল না।

“রিয়া।” তরুণীটি নিজের নাম জানাল, “আমিও এই মূর্তি দুটির ভক্ত।”

একটু দ্বিধার পর সূর্য বলল, “এরা কারা জানেন?”

রিয়া মৃদু হেসে বলল, “এরা রাজা ও রানি। কিংবদন্তি, এরা একে অপরকে এতটা গভীর ভাবে ভালোবেসেছিলেন যে মৃত্যুর পরেও একসঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। তাই শিল্পী তাঁদের এই মূর্তিটি খোদাই করেছিলেন।”

সূর্য চুপ করে শুনছিলেন। রিয়ার কথায় এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ ছিল, যেন সেই প্রেমের গল্পটি সে নিজের চোখে দেখেছিল।

“এমন প্রেম কি সত্যিই হয়?” সূর্য নিজের অজান্তেই প্রশ্ন করে ফেলল।

রিয়া তার চোখে চোখ রেখে বলল, “হয়, যদি আপনি খুঁজতে চান।”

সূর্যের বুকটা কেমন জানি অস্থির হয়ে উঠলো। জীবনের পঁয়তিরিশ বছর পার হয়ে গেছে। একঘেয়েমি আর দায়িত্বের বোঝা নিয়ে চলছে তার জীবন। রিয়ার কথায় যেন একটা আশার আলো জ্বলে উঠলো।

“কিন্তু…” সূর্য কথাটা শেষ করতে পারল না।

রিয়া এগিয়ে এসে মূর্তি দুটির দিকে নির্দেশ করে বলল, “এঁদের মতো চিরকালের প্রেম চাইলে, ঢুকে পড়ুন এই মূর্তির মধ্যে।”

সূর্য চমকে গেলেন। এটা কি পাগলামি, না একটা খেলা? কিন্তু রিয়ার চোখের আন্তরিকতা দেখে সন্দেহ হলো। সেই মুহূর্তে সূর্যের মনে হলো, হয়তো এটাই তার জীবনের শেষ সুযোগ। এতদিনের একঘেয়েমি ভাঙার একমাত্র উপায়।

নিজের সন্দেহ দ্বিধা সরিয়ে রেখে সূর্য পা বাড়াল মূর্তির দিকে। হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করল ঠান্ডা পাথরে। কিন্তু পর মুহূর্তেই ঘটলো অবিশ্বাস্য ঘটনা! পাথরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছিলেন সূর্য! ঠান্ডা শিহরণ তার সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়লো। চারপাশের আলো কমতে লাগলো। শরীরটা যেন ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হচ্ছে, এইরকমই মনে হচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই সবকিছু থেমে গেল।

চোখ খুলতেই দেখলেন, সে আর জাদুঘরে নেই। সামনে বিশাল এক সোনালি গেট। গেটের দু’পাশে দু’জন প্রহরী, যাদের চেহারা অদ্ভুত, কিন্তু চোখে এক অদ্ভুত শান্তি।

গেট খোলা হলো। সূর্যের হাত ধরে রিয়া ভিতরে নিয়ে গেল। চারপাশটা যেন স্বর্গের দেখা! সবুজ ঘাসের মাঠ, আকাশে নীল রঙের ঝিলমিল, আর রয়েছে ফুলের অপরূপ সৌরভ। গাছের ডালে ডালে রঙবেরঙের পাখিদের কুহুতান।

সূর্য চারপাশে তাকিয়ে অভিভূত হয়ে গেল। এত সৌন্দর্য এক জায়গায় দেখার অভিজ্ঞতা তার আগে কখনো হয়নি।

রিয়া হাসল, “এই স্বর্গ, সূর্য। এখানে আপনি পাবেন চিরকালের প্রেম, চিরকালের সুখ।”

সূর্যের মনে একটু সন্দেহ জাগল। কিন্তু রিয়ার হাসি আর চারপাশের সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে ফেলল।

দিন কয়েক কাটলো স্বর্গে। রিয়া সূর্যের সঙ্গী হলো। তারা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ালো সুন্দর বাগানে, শুনলো পাখির কলতান, আর গল্প করলো তারকা দেখতে দেখতে। সূর্যের মনে হলো, সে হয়তো সত্যিই স্বর্গ পেয়ে গেছে। রিয়ার ভালোবাসা তাকে ভাসিয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু কিছুদিন পর, সূর্যের মনে একঘেয়েমি আসতে শুরু করলো। স্বর্গের সবকিছুই একই রকম। প্রতিদিন একই সূর্যোদয়, একই সন্ধ্যা, একই রকম ফুলের গন্ধ। আর সবচেয়ে বড় কথা, রিয়ার প্রেম, যা একসময় মধুর মনে হয়েছিল, এখন তা একঘেয়ে লাগতে শুরু করেছে।

সূর্য একদিন রিয়াকে জিজ্ঞাসা করল, “এখানে কি সময় থেমে যায়?”

রিয়া চুপ করে রইল। তারপর মৃদু স্বরে বলল, “হ্যাঁ, সূর্য। এখানে সময়ের কোনো ধারণা নেই।”

সূর্যের বুকটা এলিয়ে গেল। সময়ের বন্ধন ছাড়া জীবন, কী নিরস ব্যাপার! সে হঠাৎ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে, ছেলেমেয়েদের, এমনকি তার পুরোনো জীবনের একঘেয়েমি কাজটিকেও মিস করতে শুরু করলো।

একদিন সূর্য রিয়াকে বলল, “আমি ফিরে যেতে চাই।”

রিয়া চমকে উঠল, “কিন্তু সূর্য, এখানে তো সবকিছুই আছে।”

“হ্যাঁ, সবকিছুই আছে, কিন্তু জীবনের গতি নেই।” সূর্য কথাটা শেষ করল, চোখে এক অসমাপ্ত ইচ্ছার ছায়া। “আমার ছেলেমেয়েদের দেখতে ইচ্ছে করছে, বাবা-মাকে একবার জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে। এমনকি অফিসের একঘেয়ে কাজটাও এখন ভালো লাগে।”

রিয়া চুপ করে রইল। সূর্যের কথায় সত্যি ছিল। চিরকালের প্রেম, সুখ – সবকিছুই একঘেয়ে হয়ে যায় যদি জীবনের কোনো গতি না থাকে, কোনো পরিবর্তন না থাকে।

“আচ্ছা,” রিয়া একটু পরে বলল, “আপনি ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, ফিরে গেলে আর এখানে আসতে পারবেন না।”

সূর্যের মুখে একটা হাসি ফুটে উঠলো। “ঠিক আছে।”

রিয়া সূর্যকে নিয়ে আবার সেই সোনালি গেটের কাছে এলেন। গেট খুললো আর সূর্য পা বাড়াল ভিতরে। চোখ খুলতেই দেখল, তিনি আবার জাদুঘরে। ঠান্ডা পাথরের মূর্তি দুটির সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এবার মনে হলো, মূর্তি দুটির চোখে একটা বিষণ্নতা ঝলমল করছে।

সূর্য জাদুঘর থেকে বেরিয়ে এল। চারপাশের হৈ-হৈ, রাস্তার গোলমাল – সবকিছুই আগের মতোই লাগলো। কিন্তু তার মধ্যে একটা পরিবর্তন এসেছে। সেই স্বর্গের স্মৃতি তার মনে এক অদ্ভুত আনন্দ জাগিয়ে দিচ্ছে। সেই স্বর্গের একঘেয়েমি তাকে বুঝিয়েছে, সত্যিকারের সুখ আছে পরিবর্তনের মধ্যে, জীবনের গতির মধ্যে।

বাড়ি ফিরে সূর্য সবার আগে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরল। তারপর ছেলেমেয়েদের। অফিসে গিয়েও কাজে মন দিয়ে লাগল। আগের মতো একঘেয়ে লাগছিল না আর। প্রতিটা মুহূর্তকে সে উপভোগ করতে শুরু করল। কারণ, সে জানত, এই মুহূর্তগুলোই আসল স্বর্গ। আর মাঝেমধ্যে, রাতের নীল আকাশে তারা দেখার সময়, সে মনে করতো রিয়াকে। সেই মেয়েটির প্রেম, যেটা তাকে চিরকালের স্বর্গের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবের সুখের দাম বুঝিয়েছিল।

কয়েক বছর কেটে গেল। সূর্যের জীবনে আবার একঘেয়েমি ঢুকে পড়েছে। ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেল। বৃদ্ধ বাবা-মাও একসময় চলে গেলেন চিরবিদায় নিয়ে। অফিসের কাজও এখন আর আগের মতো উত্তেজনা দেয় না। স্বাভাবিক জীবনের এই চেনা একঘেয়েমি আবার সূর্যকে একঘামে ফেলতে শুরু করলো।

এক রাতে, তার ঘুম ভাঙলো চাঁদের আলোয়। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে সে দেখলো পূর্ণ চাঁদটা ঠিক স্বর্গের রাতের মতোই ঝলমল করছে। হঠাৎ তার মনে পড়লো রিয়া। সেই মহিলা, যে তাকে স্বর্গ দেখিয়েছিল। কৌতূহল আর একটুখানি আশায় সূর্য জাদুঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

পরের দিন সকালে জাদুঘরে ঢুকে সোজা সেই মূর্তি দুটির সামনে চলে গেল। মূর্তি দুটির চোখে আগের মতো বিষণ্নতা ছিল না। বরং, এক অদ্ভুত আশা ঝলমল করছিল। সূর্য হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করলো ঠান্ডা পাথরে। কিন্তু এবার কিছুই ঘটলো না।

আশাহতাশ হয়ে সরে এলো সূর্য। মনে মনে ভাবল, হয়তো সেই সময়টা আর নেই। হয়তো রিয়া আর নেই। কিন্তু ঠিক সেই সময়, একটা মৃদু কণ্ঠস্বর তার কানে এল, “আপনি ফিরে এসেছেন, সূর্য।”

সূর্য চমকে ঘুরে দাঁড়ালো। দেখলো রিয়া, ঠিক সেই আগের মতোই সুন্দরী, কিন্তু চোখে এবার একটুখানি বয়সের ছাপ।

“কিন্তু… কীভাবে?” স্তম্ভিত হয়ে প্রশ্ন করলো সূর্য।

রিয়া হাসল, “এই মূর্তি দুটি হলো আমরা। আমরা স্বর্গের দেয়াল। আমাদের কাজ হলো মানুষকে চিরকালের প্রেমের স্বপ্ন দেখানো। কিন্তু ঠিক তেমনই জীবনের বাস্তবটাও বুঝিয়ে দেওয়া।”

সূর্য একটু চুপ করে রইল, তারপর বললো, “আমি বুঝেছি। সত্যিকারের সুখ আছে পরিবর্তনের মধ্যে, জীবনের গতির মধ্যে।”

রিয়া মাথা নাড়ল, “শুধু তাই নয়, সূর্য। সত্যিকারের সুখ আছে মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করায়। আর সেই মুহূর্তগুলোকে আরো সুন্দর করে তোলে ভালোবাসা।”

সূর্যের চোখে একটা আনন্দ জ্বলে উঠলো। সে এগিয়ে গিয়ে রিয়ার হাত ধরলো। হয়তো সে আর স্বর্গে ফিরে যেতে পারবে না, কিন্তু রিয়ার সাথে এই জীবনেও সে পেয়ে গেছে এক অসাধারণ প্রেম, এক অন্যরকম স্বর্গের স্পর্শ।

রাতের অন্ধকার গভীর হয়ে এলো। জাদুঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল, কিন্তু সূর্য আর রিয়া সেখানে ছিল না। তারা দু’জনেই বেরিয়ে এসেছিল। রাতের শীতল বাতাস দু’জনের চুল ছুঁইয়ে দিয়ে গেল।

সূর্য রিয়ার চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে এখন ছিল এক অদ্ভুত গভীরতা, যেন বহু শতাব্দীর জ্ঞান লুকিয়ে আছে।

“কোথায় যাবো?” সূর্য জিজ্ঞাসা করল।

রিয়া হাসল, “এই শহরই তো আপনার স্বর্গ, সূর্য। এখানে আছে আপনার পরিবার, বন্ধু, স্মৃতি।” সে চারপাশে তাকালো, “এই রাস্তাঘাট, এই আলো, এই মানুষেরা – সবকিছুই একটা গল্প বলে। শুধু শোনা চাই।”

সূর্য মাথা নাড়ল। রিয়া ঠিকই বলেছে। এই শহর, যেটা একসময় একঘেয়ে লেগেছিল, এখন তার কাছে অন্যরকম মনে হচ্ছে। রাস্তার আলো, মানুষের হাসি-কান্না, গাড়ির হর্নের আওয়াজ – সবকিছুই যেন একটা মধুর সিম্ফনি।

রিয়া হাত বাড়িয়ে সূর্যের হাত ধরল। “চলুন, একটা চা খাই।”

একটা ছোট্ট চায়ের স্টলে বসে চায় খেলেন সূর্য আর রিয়া। ঠান্ডা চায়ে একটা অদ্ভুত স্বাচ্ছন্দ্য লাগছিল। তারা গল্প করলেন, পুরোনো স্মৃতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। রাত বাড়তে থাকলো, কিন্তু তাদের গল্পের মধুরতা কমলো না।

শেষ রাতে রিয়া সূর্যকে তার বাড়ির সামনে দাঁড় করাল। সূর্য চারপাশে তাকালেন। এই বাড়ি, যেটা একসময় একঘেয়ে মনে হতো, এখন তার চোখে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।

“আমি আসছি,” রিয়া কণ্ঠটা নামিয়ে বলল।

সূর্য একটু থমকে গেলেন। সে জানতো রিয়া আর আগের মতো সবসময় তার পাশে থাকবে না। কিন্তু রিয়ার সাথে এই সামান্য সময়টুকুও তার কাছে অমূল্য হয়ে গেছে।

“আবার দেখা হবে?” সূর্য জিজ্ঞাসা করল।

রিয়া হাসল, “হয়তো হবে, হয়তো হবে না। সবকিছুই সময়ের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু জানবেন, আপনার মনের মধ্যে, সবসময়ই থাকবো।”

সূর্য আর কিছু বলতে পারল না। রিয়া ঘুরে দাঁড়ালেন আর ধীরে ধীরে চলতে লাগলো। সূর্য চেয়ে রইলেন, যতক্ষণ না রিয়া রাতের অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেল।

দরজা খুলে সূর্য বাড়ির ভিতরে ঢুকল। তার মনে এখনো রিয়ার কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। হয়তো সে আর স্বর্গে ফিরে যেতে পারবে না, কিন্তু রিয়ার এই স্পর্শ তার জীবনে নিয়ে এলো এক অসাধারণ পরিবর্তন।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্য দেখল রাতের বাতাসে তার বারান্দায় একটা অপরূপ সাদা ফুল ফুটে আছে। সে আগে কখনো এমন ফুল দেখেননি। ফুলের পাপড়িগুলো স্বর্গের আকাশের মতো নীল ছিল, আর মাঝখানে ছিল একটা ছোট্ট সোনালি রঙের চুম্বন. সূর্য জানত, এটা রিয়া তার জন্য রেখে গেছেন, চিরকালের স্বর্গের স্মৃতি হিসেবে।

সূর্য সেই ফুলটা তুলে নিলেন। এই ফুল তাকে প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেবে, সত্যিকারের সুখ আছে পরিবর্তনের মধ্যে, মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করায়, আর ভালোবাসায়।

সূর্য জীবনে ফিরে এল নতুন উদ্যম নিয়ে। ছেলেমেয়েদের সাথে বেশি সময় কাটাতে শুরু করল। বন্ধুদের সাথে দেখা করল। অফিসের একঘেয়ে কাজও এখন আর তাকে বিরক্ত করছিল না। বরং, সেই কাজের মধ্যেও নতুন উৎসাহ খুঁজে পাচ্ছিলেন। কারণ, রিয়া তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সবকিছুই একটা গল্প, শুধু শোনা চাই।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে সেই নীল ফুলের দিকে তাকিয়ে সূর্য রিয়ার কথাগুলো মনে করত। রাতের আকাশে তারা দেখার সময় মনে হতো রিয়া কোথাও তার জন্য গল্প শোনাচ্ছে, এই বিশ্বের কোনো এক কোণে। কিংবা হয়তো কোনো একদিন, কোনো এক জাদুঘরে, কোনো এক মূর্তির সামনে আবার দেখা হবে।

কিন্তু এখন, এই জীবনেই, সূর্য খুঁজে পেয়েছিলেন তার নিজের স্বর্গ – পরিবারের ভালোবাসা, বন্ধুদের সঙ্গ, কাজের সার্থকতা, আর রিয়ার স্মৃতির মতো অমূল্য উপহার।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!