আবছা পা

পুরোনো বাড়ির আলমারি খুলতেই ভুরভুর করে এল চন্দন আর ধূপের গন্ধ। ঠাকুমার দেওয়া রুপোর নূপুরজোড়া। আলতো করে হাতে নিতেই মনে হলো, যেন কেউ ছুঁয়ে দেখল। অথচ ঘরে আমি একা। কে ছিল তবে?

এই নূপুরই পরা ছিল দিদার শেষ যাত্রায়। বলতেন, "আমার পাঁজরের মতো আগলে রাখিস একে।" নূপুরের ঝুমঝুম শব্দটা আজও কানে বাজে। সেই মিহি, অচেনা আওয়াজটা। দিদার স্মৃতি কি তবে ফিরে এল আজ?

রাত বাড়তেই শুরু হলো সেই অদ্ভুত শব্দ। যেন কেউ হেঁটে চলেছে বারান্দা ধরে। ঘুম ভাঙতেই দেখলাম, দরজার সামনে কার ছায়া। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না মুখটা, শুধু নূপুরের সেই আওয়াজ। কে হতে পারে?

সাহস করে আলো জ্বালতেই সব শান্ত। কিন্তু টেবিলে রাখা নূপুরজোড়া নেই। গা ছমছম করে উঠলো। আমার ঘর থেকে কি তবে হারিয়ে গেল এই জিনিসটা? নাকি কেউ নিয়ে গেল?

আস্তে আস্তে হেঁটে গেলাম সিঁড়ির কাছে। নিচে আবছা আলোতে দেখলাম, একটা ছায়া নূপুর পরে উঠোনে নাচছে। তার হাঁটার ভঙ্গি দিদার মতোই। তবে মুখটা কেন এত অন্ধকার?

হঠাৎ ছায়াটা ঘুরে তাকাল আমার দিকে। মুখের জায়গায় শুধুই ফাঁকা গহ্বর। কিন্তু চোখে সেই চিরচেনা স্নেহ। দিদা! এক তীব্র শীতলতা গ্রাস করল আমাকে। উনি কি কিছু বলতে চাইছেন?

পরের দিন নূপুরজোড়া পেলাম সেই আলমারিতেই। তবে এবার তাতে লেগে ছিল মাটির সামান্য দাগ। কেন এসেছিলেন দিদা? হয়তো শুধু জানাতে যে, তিনি আজও চলে যাননি। আর সেই রাত?

আবছা পা