সোনালি পালক

চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে গঙ্গার ঘাট। ছোট্ট গ্রামটায় সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, শুধু মায়া নামে এক মেয়ে জানালার ধারে বসে আকাশ দেখছে। হঠাৎ আকাশে ঝলসে উঠল রঙিন আলো। মায়া কৌতূহলে ফিসফিস করে বলল— ওটা কী?

মায়া দেখল এক সোনালি পালক ভেসে নেমে এল তার উঠোনে। পালক ছুঁতেই চারপাশে মৃদু সুর বাজতে শুরু করল। বাতাসে ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল। ভয় আর আনন্দ মিলেমিশে তার চোখ চকচক করে উঠল। এখন সে কী করবে?

অকস্মাৎ পালকটি রূপ নিল এক ছোট্ট রাজহাঁসে। রাজহাঁসটি বলল, “আমি চন্দ্রলোকের দূত। তোমার হৃদয় নির্মল বলে তোমায় বেছে নিয়েছি।” মায়া হতভম্ব। সত্যিই কি সে এমন এক জাদুকরী যাত্রার যোগ্য? প্রশ্নে ভরে উঠল মন।

রাজহাঁস বলল, “চন্দ্ররাজাকে অশুভ ছায়া বন্দী করেছে। কেবল তোমার সাহসেই মুক্তি সম্ভব।” মায়া থমকে গেল। গ্রামের মেয়ে সে, কেমন করে পারবে? কিন্তু আকাশে ঝলমলে চোখে তাকিয়ে মনে হলো— কোনো অদৃশ্য শক্তি তাকে ডাকছে।

রাজহাঁসের ডানায় হাত রাখতেই মায়া উড়ে উঠল। গ্রামের ছাদগুলো নিচে সরে গেল, গঙ্গার ঢেউ রুপালি হয়ে ঝলমল করল। আকাশের ওপরে অন্ধকার দুর্গ দাঁড়িয়ে আছে। সেই দুর্গের ফটক থেকে কালো ছায়া নড়ছে। ভেতরে কী অপেক্ষা করছে?

মায়া সাহস জোগাড় করে ছায়াদের সামনে দাঁড়াল। হৃদয় জোরে ধুকপুক করছে, তবু কণ্ঠে দৃঢ়তা— “আলোকে আটকানো যায় না।” সে পালক তুলে ধরতেই সাদা আলো বিস্ফোরিত হলো। ছায়ারা কেঁপে উঠল, অন্ধকার গলে গেল। কিন্তু রাজা কোথায়?

আলো মুছে গেলে চন্দ্ররাজা মুক্ত হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমার সাহসেই আকাশ আবার আলোকিত।” মায়া গ্রামের উঠোনে ফিরে এল, হাতে ঝলমলে পালক। জানালার ধারে বসে সে ফিসফিস করল— স্বপ্নই কি সত্যি হয়ে গেল?

প্রেমের পথচলা