শিয়ালদহ স্টেশনের কোলাহল, মানুষের ভিড় আর ঝড়ো হাওয়ার ভেতর দাঁড়িয়ে রিমি। হাতে ছোট্ট লাল ব্যাগ, চোখে অস্থিরতা। আজ যদি সে না আসে? শেষবারের মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, “আমি ফিরব”—কিন্তু ফিরবে তো?
স্টেশনের মাইকে ভেসে এল ঘোষণা—“শেষ ট্রেন পাঁচ মিনিটে ছাড়বে।” রিমির বুক ধড়ফড় করছে। দূরে আলোর ঝলকানি, কিন্তু চেনা মুখ নেই। মনে পড়ল অরুণের হাসি—যেন ভোরের আলো। এ কি প্রতিশ্রুতির ভাঙন? নাকি দেরি?
হঠাৎ বাতাসে ভেসে এল গানের সুর, “তুমি রবে নীরবে…”। রিমির কান ঝাঁকুনি খেল। সে গান তো অরুণই গাইত! ভিড় ঠেলে ছুটল সে। হৃদয় বলছে—অরুণ এসেছে। কিন্তু কোথায়? চোখ যেন ধোঁকায় ভরে উঠছে।
এক মুহূর্তে ভিড়ের ফাঁক গলে দেখা দিল অরুণ। শার্ট ভিজে গেছে বৃষ্টিতে, চোখ ক্লান্ত অথচ জ্বলজ্বল করছে। রিমির বুক ধক করে উঠল। কিন্তু সে কি সত্যিই তার দিকে ছুটে আসছে? নাকি ভিড় গিলে ফেলবে তাকে?
অরুণ নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল, “আমি এসেছি, রিমি। প্রতিশ্রুতি ভাঙিনি।” রিমির চোখ ভিজে গেল। কিন্তু ট্রেন তখন হুইসেল বাজিয়ে ছাড়তে প্রস্তুত। সুযোগ একটাই—আজই বেরোতে হবে, নাহলে সব ভেঙে যাবে। তারা কি উঠতে পারবে?
হাত ধরে দৌড়ে উঠল তারা। দরজা বন্ধ হতে হতে অরুণ রিমিকে বুকে টেনে নিল। জানলার বাইরে ছুটে যাচ্ছে শহর, ভিতরে শুধু দু’জনের নিঃশ্বাস। রিমি ফিসফিস করে বলল, “এবার কি সত্যিই শেষবার নয়?”
অরুণ মৃদু হেসে বলল, “না রিমি, এবার শুরু।” ট্রেন অন্ধকার চিরে এগিয়ে গেল। স্টেশনের আলো দূরে মিলিয়ে গেলেও, দু’জনের চোখে জ্বলল নতুন ভোরের আগুন। তাদের গল্প—ভয়, অপেক্ষা আর প্রেমের অটুট প্রতিশ্রুতির মতো রয়ে গেল।