অন্তর্ধান

রাত তখন আড়াইটা। পুরনো রেলওয়ে গেস্টহাউসের তিন নম্বর ঘরে ঢুকল ডিটেকটিভ অনিরুদ্ধ। বাইরে ঝড় উঠেছে। ঘরের কোণে ধুলো জমা আয়নাটায় হঠাৎ ঝাপসা ছায়া দেখা গেল… কার?

গতকাল এই ঘর থেকেই উধাও হয়েছেন কলকাতার বিখ্যাত সমাজকর্মী মীনা সেন। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালায় লোহার শিক। অথচ মীনার চাবির গোছা টেবিলেই পড়ে ছিল।

অনিরুদ্ধ আয়নার পেছনে ঠাণ্ডা বাতাস টের পেল। সে ধীরে ধীরে আয়নাটি সরাতে গেল। হঠাৎ নিচের মেঝে খানিকটা দুলে উঠল—আয়নার পিছনে একটা সিক্রেট প্যাসেজ?

প্যাসেজটা সিঁড়ির মতো নিচে নেমে গেছে, ছাদ থেকে ঝুলছে বাদুড়। দেয়ালে পুরনো ছবি—একটায় মীনার মুখের পাশে দাঁড়িয়ে কে যেন… হুবহু অনিরুদ্ধের মতো দেখতে!

একঘণ্টা পর, সে পৌঁছল একটা ধূলিধুসর ঘরে—মাঝখানে বসে আছেন মীনা। চোখে জলের ছাপ। “তুমি? তুমি তো… অনেক আগেই মরে গেছ!” ফিসফিস করে বললেন তিনি।

“আমি অনিরুদ্ধ, পুলিশের তদন্তকারী। আপনি কী বলছেন?” মীনা কাঁপা গলায় বললেন, “তিন বছর আগে এই ঘরেই খুন হয়েছিলেন এক ডিটেকটিভ… ঠিক তোমার মতো দেখতে। আমি দেখেছি…”

পেছনে কিছু একটা সরল শব্দ করল। অনিরুদ্ধ ঘুরতেই পেছনের দরজা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল। আয়নায় তখন এক মৃত অনিরুদ্ধ তাকিয়ে আছে তার চোখে… তিন নম্বর ঘরে কেউ একবার ঢুকলে, আর ফেরে না।

তিন নম্বর ঘর