তিন নম্বর ঘর

পুজোর ছুটিতে তৃষা এল মামার বাড়ি—পুরনো, ধুলো ধরা চৌধুরী ভিলা। শুনেছে, অনেক বছর আগে এখানেই হারিয়ে গিয়েছিল এক কিশোরী, নাম ছিল শ্রীময়ী। তৃষা ঘুমোবার ঘরে ঢুকতেই বাতি টিম টিম করে উঠল। আলোটা ঠিক তখনই কমে গেল…

তৃষার ঘুম আসছিল না। জানালার কাচে হালকা ঘষাঘষির শব্দ। বাইরে তাকিয়ে সে দেখল, বাগানে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে—সাদা শাড়ি, পা নেই। সে তাকিয়ে হাসছে, অচেনা সেই হাসি যেন ঠাণ্ডা শীতে ছুরি। তৃষা চেঁচাতে গিয়েও চিৎকারটা আটকে গেল।

পরদিন সকালে তৃষা সবাইকে বলল, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করল না। দিদিমা শুধু ফিসফিস করে বললেন, “চোখে যা দেখিস, সবই সত্যি নয় রে…” তৃষার কাঁধে হালকা স্পর্শ, পিছনে কেউ নেই। শুধু দেয়ালে খোদাই করা একটা নাম— “শ্রীময়ী”

রাতে ঘরের আয়নাটা কেমন অদ্ভুত লাগছিল। তৃষা আয়নার দিকে তাকাতেই দেখে—তার পাশে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে, ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলছে। কিন্তু আয়নার বাইরে কেউ নেই! সে ঠোঁট পড়ার চেষ্টা করে... "পিছনে ফিরো না"—এই কথাটাই বারবার বলছে মেয়ে।

তৃষার গায়ে কাঁটা। বাতি বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎ। ঘরটা ঠাণ্ডা হয়ে এল, নিঃশব্দ। হঠাৎ খাটের তলায় টান, যেন কেউ নিচ থেকে হাত বাড়িয়ে... তৃষা জোরে টর্চ জ্বালাল। শুধু একটা চুলভরা হাত দ্রুত গলিপথে সরে গেল।

তৃষা এবার ঠিক করল, আগের দিনের পুরনো আলবাম দেখবে। একটা পাতায়, সাদা শাড়ি পরা এক কিশোরীর ছবি—চোখজোড়া ঠিক সেই মেয়েটার মতো! নিচে লেখা: “শ্রীময়ী – ১৯৮৫, মৃত্যুর আগের ছবি।” হঠাৎ পিছনে ঠাণ্ডা নিঃশ্বাসের শব্দ...

তৃষা ভয়ে পিছনে ফিরল—ঘর ফাঁকা। কিন্তু আয়নায় দেখা যাচ্ছে দুটো মেয়ে! একটা সে নিজে, আরেকটা শ্রীময়ী... এবার আর হাসছে না, ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ধীরে ধীরে আয়নার কাচে লেখা ফুটে উঠছে: “এবার তুই আমার জায়গায় আয়।”

চাঁদের দাদুর ঘুড়ি