অটল প্রথম পা

ভোরের কুয়াশায় ঢাকা ছোট শহর। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অরুণের পকেটে শেষ ভাড়ার টাকা। বাড়ির চিঠিতে শুধু এক লাইন—হাল ছাড়িস না। দূরে ট্রেনের হুইসেল, সিদ্ধান্তের মতো তীক্ষ্ণ। আজই কি সে ফিরবে, নাকি অজানার দিকে এক পা বাড়াবে?

কলকাতার ভিড় তাকে গিলে খায়। কাজ নেই, ভরসা নেই, কেবল মায়ের মুখ মনে পড়ে। রাতে ফুটপাথে ঘুম, আকাশের তারায় সে প্রশ্ন করে—পরাজয় কি এখানেই শেষ? ভেজা বাতাসে বুকের ভেতর জ্বলে ওঠে নীরব আগুন। কেন?

এক চায়ের দোকানে হঠাৎ সুযোগ। মালিক বলে, সকালে এসো। অরুণ সারারাত জেগে কাজ শেখে, কাঁচের গ্লাসে প্রতিফলিত তার চোখে ভয় আর আশার লড়াই—জিতবে কে? স্টেশনের ঘড়ি টিকটিক করে, সময় যেন তাকেই দেখে। ভোর আসছে।

দিন যায়, হাত পুড়ে, মন শক্ত হয়। বেতন সামান্য, সম্মান বড়। দোকানের কোলাহলে সে নিজেকে খুঁজে পায়। কিন্তু হঠাৎ মালিক অসুস্থ—সব ভেঙে পড়বে? দায়িত্ব কি এবার তার কাঁধে? শহর চুপ করে তাকিয়ে থাকে। নিঃশ্বাস।

অরুণ এগিয়ে আসে। হিসাব, সরবরাহ, হাসি—সব সামলে। গ্রাহকের ভিড়ে তার কণ্ঠ কাঁপে না। রাতে বাড়িতে ফোন, মায়ের চোখ ভিজে—এই কি শুরু? বহুদিনের অপেক্ষা যেন নড়ে ওঠে। আকাশ আজ একটু কাছের। হালকা আলো।

কয়েক মাসে দোকান বদলে যায়। নতুন সাইনবোর্ডে নাম ওঠে তার। তবু রাতে সন্দেহ আসে—ভাগ্য কি ফিরিয়ে নেবে সব? বৃষ্টির শব্দে সে দৃঢ় শপথ করে। ভেঙে পড়বে না। কাজই তার মন্দির। প্রতিটি ভোরে সে নিজেকে গড়ে।

একদিন সে ট্রেন ধরেনি। শহরই তাকে ধরেছে। বাসস্ট্যান্ডের ছেলেটা আজ আলো জ্বালায় অন্যদের পথে। শেষ চিঠিতে এক লাইন—হাল ছাড়িস না, কারণ শুরু এখানেই। তুমি কি পরের যাত্রী? হুইসেল আবার বাজে। পা বাড়াও। এখনই আজ।

নীরব স্টেশনের রহস্য