বৃষ্টিভেজা শিয়ালদহ স্টেশনে রাত বারোটার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা রুদ্র অনুভব করে—কারও শ্বাস তার ঘাড়ের খুব কাছে। পকেটে রাখা পুরোনো চাবিটা হঠাৎ বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে ওঠে।
পাঁচ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বাবার সেই চাবি। আজ প্রথমবার সে চাবি নড়ে উঠল। অন্ধকারের ভেতর থেকে ভেসে আসে পরিচিত কণ্ঠ—“ফিরে আয় রুদ্র।” ট্রেনের হুইসেলের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে যায়, প্রশ্ন রেখে যায়।
রুদ্র ছুটতে থাকে খালি প্ল্যাটফর্ম পেরিয়ে, ভাঙা আলোয় ভিজে থাকা সিঁড়ির দিকে। দেয়ালে ঝুলে থাকা পোস্টারে বাবার মুখ। কালি দিয়ে লেখা—“সত্য নীচে।” নীচে মানে কী—মাটি, না স্মৃতি?
স্টেশনের পরিত্যক্ত বেজমেন্টে ঢুকতেই দুর্গন্ধ আর নোনাধরা বাতাস। চাবিতে তালা খুলতেই আলো জ্বলে ওঠে। সামনে বাবার হাতের লেখা নোটবুক, আর পাশে পুলিশের ব্যাজ। রুদ্রের বুক কেঁপে ওঠে—সবকিছুই কি মিথ্যে ছিল?
ছায়া থেকে বেরিয়ে আসে একজন পুলিশ অফিসার। ফিসফিস করে বলে, “তোমার বাবাই আমাদের থামিয়েছিল।” বন্দুক উঠেও নামে। দূরে সাইরেন। রুদ্র বুঝতে পারে, সত্য জানার মূল্য হয়তো আজই দিতে হবে।
ভোরের আলোয় রুদ্র স্টেশন থেকে বেরোয়। বাবার নোটবুক বুকে চেপে ধরা। পেছনে পড়ে থাকে বন্ধ বেজমেন্ট। রহস্য পুরো খোলে না, কিন্তু রুদ্র জানে—কিছু সত্য দেরিতে এলেও, ছায়া হয়ে পিছু ছাড়ে না।