গ্রামের শেষ প্রান্তে পুরোনো শ্মশানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা রাতে আলো জ্বালাত, কারণ কেউ জানত না ভিতরে থাকে কে, তবু প্রতি অমাবস্যায় সেখানে ভেসে আসত একটা শিশুর কান্না, যেন মাটির তলায় কেউ আটকে আছে
সেদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে আমি মশাল হাতে সেই বাড়ির দরজায় পৌঁছাই, মায়ের নিষেধ মনে পড়লেও কান্নাটা আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল অন্ধকারের ভেতরে, হাওয়ায় ভেসে থাকা ধূপ আর পচা ফুলের গন্ধে শ্বাস আটকে এলো
ভেতরে ঢুকতেই দেখি মেঝের উপর লাল সিঁদুরে আঁকা ছোট ছোট পায়ের ছাপ, যেন কেউ ঘুরে ঘুরে আমাকে পথ দেখাচ্ছে, দেয়ালে টাঙানো দেবীর চোখ নড়ে উঠল মনে হল, আর ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে গেল
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কাঁপা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল, দাদা, আমাকে দেখছ না? ঘুরে দেখি খালি ঘর, কিন্তু মেঝেতে পড়ে আছে আমার ছোটবেলার চটি, যেটা শ্মশানে হারিয়েছিলাম বহু বছর আগে, শরীর ঠান্ডায় জমে গেল
হঠাৎ বুঝলাম এই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার আগে আমার যমজ ভাই এখানেই নিখোঁজ হয়েছিল, যার মৃত্যু কখনো মানা হয়নি, মায়ের কান্না আর গ্রামের চুপচাপ সম্মতি আজও বাতাসে আটকে আছে, এই দেয়ালের ভেতর চুপচাপ রয়ে গেছে
কান্নার শব্দটা এবার হাসিতে বদলে গেল, আর অন্ধকার থেকে একটা হাত আমার কবজি চেপে ধরল, হাতটার আঙুলে ছিল সেই চটির ফিতে, চোখে পড়ল পরিচিত জন্মদাগ, যা শুধু আমার আর ওর ছিল, চেনা ভয় নিয়ে
পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন শ্মশানের পাশে দুজনের পায়ের ছাপ পেল, একটা বড়, একটা ছোট, বাড়িটার আলো আর জ্বলেনি আর, মায়ের ঘরে আজও রাতে দুই ভাইয়ের কান্না মিশে যায়, একই অদৃশ্য ঠিকানায় ডাকতে ডাকতে চলে