গ্রামের শেষ প্রান্তে ছোট্ট রাহুলের ঘর, জানালার পাশে দাঁড়ানো পুরোনো নিমগাছ। এক রাতে চাঁদের আলোয় সে দেখে, গাছের ডালে নীল আলো জ্বলছে, যেন কেউ তাকে চুপিচুপি ডাকছে। হৃদয় ধকধক করে, তবু চোখ সরাতে পারে না।
পরদিন সন্ধ্যায় দিদার গল্প মনে পড়ে—নিমগাছে থাকে রক্ষী আত্মা। সাহস জোগাড় করে রাহুল বাইরে যায়, পায়ের নিচে শুকনো পাতার শব্দ, আর বাতাসে অদ্ভুত মিষ্টি গন্ধ, যা তাকে আরও কাছে টানে। হালকা ভয়ে বুক কাঁপে।
হঠাৎ আলো ঘন হয়, ডাল ভেঙে নেমে আসে ছোট্ট নীল পাখি, চোখে তারার ঝিলিক। পাখিটি ফিসফিস করে বলে, গ্রাম বিপদে, নদীর বাঁধ ভাঙতে বসেছে আজ রাতেই। রাহুলের গলা শুকিয়ে যায়, বিশ্বাস আর ভয়ের মাঝে দাঁড়ায়।
পাখির ডানায় আলো জ্বলে ওঠে, পথ দেখায় মাঠ পেরিয়ে নদীর ধারে। রাহুল ছুটে যায়, কাদা মাখা পায়ে, দূরে ঢেউয়ের গর্জন শোনে, মনে পড়ে ঘুমন্ত গ্রামের মুখগুলো। সময় দ্রুত ফুরোচ্ছে। হৃদয় জোরে বাজে ঢোলের মতো।
নদীর কাছে বয়স্ক মাঝি ঘুমোচ্ছেন, রাহুল চিৎকার করে জাগায়। সবাই মিলে বাঁধে মাটি ফেলে, হাত কাঁপে, তবু আশায় চোখ জ্বলে, নীল পাখি আকাশে চক্কর দেয়। জলের চাপ বাড়ে প্রতিমুহূর্তে। রাত গভীর হয়। কার জয় হবে?
ভোরের আগে বাঁধ টিকে যায়, নদী শান্ত হয় ধীরে। গ্রাম বাঁচে। নীল পাখি রাহুলের কাঁধে বসে হাসে, বলে—সাহস মানে ভয় সঙ্গী করেই এগোনো, মনে রেখো আজকের রাত। রাহুলের চোখ ভিজে ওঠে। নিঃশ্বাসে কৃতজ্ঞতা মেশে।
সকাল হলে সব স্বাভাবিক, নিমগাছে আর আলো নেই। রাহুল জানে, গল্প সত্যি ছিল। সে জানালায় দাঁড়ায়, হৃদয়ে নতুন সাহস, অপেক্ষা করে পরের ডাকের—কখন, কোথা থেকে আসবে আবার? চুপচাপ হাসে। ঘুম পাড়ার নীরব আলোয়। শেষে।