বর্ষার সন্ধ্যায় কলকাতার ট্রামে প্রথম দেখা। জানালায় বৃষ্টি, ভিড়ে অচেনা হাত ছুঁয়ে গেল। সে চুপ করে হাসল, আমি নাম জানতে ভুলে গেলাম—কেন জানি মনে হলো, এই ভুলটাই ভবিষ্যতের শুরু। নীরবতার ভেতর কাঁপছিল হৃদয়, প্রশ্ন রেখে গেল।
পরদিন ভিড়ের শহরে তাকে খুঁজলাম। কফিশপ, বইয়ের দোকান, মেট্রোর সিঁড়ি—সবখানে তার ছায়া। ফোনে নোট লিখি, যদি দেখা হয় কী বলব, তবু কণ্ঠে সাহস জোটে না। রাত বাড়ে, মনে প্রশ্ন জাগে—সে কি আমাকেও খোঁজে? নীরবে।
তৃতীয় দিনে ট্রামের ঘণ্টা থামতেই তাকে দেখলাম। চোখে বিস্ময়, ঠোঁটে অর্ধেক কথা। সে বলল, ‘নামটা রেখে এসেছি বৃষ্টিতে।’ আমার বুক কাঁপল—এই মিল কি কাকতাল? ভিড় নিঃশব্দ, সময় থেমে রইল আমাদের মাঝে, হঠাৎ কাছাকাছি দাঁড়ালাম।
কথা বাড়ল চায়ের কাপে। সে জানাল, আগামী সপ্তাহে বিয়ে। হাসি জমে গেল ঠোঁটে, চোখে জল। বাইরে রোদ, ভেতরে ঝড়—আমি কি তাকে থামাতে পারি? টেবিলের নীচে হাত কাঁপে, সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে। একটি দৃষ্টিতে সব বদলায়?
শেষ রাতে সে ডাকল ছাদে। শহরের আলো, দূরে শঙ্খধ্বনি। বলল, সাহস থাকলে এখনই বলো। আমার শব্দ আটকে গেল—ভালোবাসা কি দেরিতে এলে অপরাধ? হাওয়ায় চুল উড়ে, বুকের ভেতর প্রার্থনা জাগে। এক সিদ্ধান্তে সব ভাঙবে নাকি গড়বে?
আমি বললাম, থাকো। সে চোখ বন্ধ করল। দূরে মাইক বাজে, বিয়ের গান। এক মুহূর্তে সে হাঁটল না—ফিরে তাকাল, অপেক্ষার দরজা খুলে দিল। নীরব সিদ্ধান্তে শহর থমকে শোনে আমাদের শ্বাস। ভাগ্যের রেখা এখন কোন দিকে?
ভোরে ট্রাম ছাড়ল। দু’হাতে দু’টি টিকিট, একই গন্তব্য। সে হাসল, আমি নাম জানলাম। বৃষ্টি থামেনি—ভবিষ্যৎও না; তবু আমরা পাশাপাশি, অজানায় সাহসী। কলকাতার সকাল সাক্ষী, ভালোবাসা দেরি মানে হার নয়। নতুন পথে হাঁটি, কৌতূহল রয়ে যায়।