শীতের কুয়াশায় ঢাকা হাওড়া ব্রিজের নিচে ভেসে ওঠে একটি মৃতদেহ। পকেটে পাওয়া যায় ভেজা একটি চিঠি—লেখা, “আমাকে সে চেনে।” পুলিশ যখন নাম খোঁজে, তখনই শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অস্বস্তিকর নীরবতা।
ইনস্পেক্টর অরিন্দম চিঠির হাতের লেখা দেখে থমকে যায়। এই লেখা সে আগে দেখেছে—বহু বছর আগে, একটি অসমাপ্ত মামলায়। স্মৃতির ভেতর থেকে উঠে আসে এক মুখ, যে আজ মৃত হওয়ার কথা ছিল না।
ময়নাতদন্ত জানায়, মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়—খুন। সময়টা রাত ঠিক বারোটা। একই সময়ে অরিন্দম নিজের বাড়িতে ছিল, স্ত্রী আর মেয়ের সঙ্গে। তবু কেন মনে হচ্ছে, এই খুনের সঙ্গে তার জীবন অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে গেছে?
তদন্ত এগোতেই জানা যায় মৃত ব্যক্তি অরিন্দমের পুরনো বন্ধু। হঠাৎ ফোন আসে—অচেনা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলে, “সত্য লুকোলে, পরের দেহটা তোমার।” কল কেটে যায়, হৃদস্পন্দন বেড়ে ওঠে।
রাতে অরিন্দম চিঠির শেষ লাইন পড়ে—“খুনি আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেকেই দেখবে।” ঘরে আয়নার দিকে তাকিয়ে সে নিজের চোখে ভয় দেখে। তবে কি খুনি সে নিজেই, নাকি কেউ তাকে ফাঁদে ফেলছে?
হঠাৎ স্ত্রী স্বীকার করে—বন্ধুকে সে-ই ডেকেছিল। পুরনো সম্পর্ক, পুরনো রাগ। ঝগড়ার সময় ধাক্কা, মাথায় আঘাত। অরিন্দম সব জেনেও রিপোর্ট বদলে দেয়, ভালোবাসার দায়ে সত্য চাপা পড়ে।
কেস বন্ধ হয়, শহর স্বস্তি পায়। কিন্তু প্রতি রাতে অরিন্দম আয়নায় দেখে বন্ধুর রক্তাক্ত মুখ। চিঠির কথাই সত্যি হয়—খুনি ধরা পড়েনি, কারণ সে এখনো নিজের চোখের সামনেই বেঁচে আছে।