ছোট্ট গ্রাম কুড়ুলিপাড়া। সন্ধ্যা নামতেই বুড়োরা বলেন, “ওই পুরনো বটগাছের কাছে যাস না!” কিন্তু নয়ন, এক কৌতূহলী ছেলেটি, চুপিচুপি সেদিকে হাঁটে... চাঁদের আলোয় গাছটা যেন কাঁপছে! কেন? কী আছে ওই গাছের নিচে?
হঠাৎ দূরে একটা ঝিলের দিক থেকে ভেসে এল এক সুরেলা বাঁশির আওয়াজ। নয়ন থেমে গেল। কে বাজাচ্ছে? সে গাছের ফাঁক দিয়ে দেখল—একটা আলো ছায়ার মতো কিছু জলপাড়ে দাঁড়িয়ে! সে কি মানুষ? না অন্য কিছু?
আলোটা ধীরে ধীরে নয়নের দিকে এগিয়ে এল। এটা ছিল এক অদ্ভুত রূপসী মেয়ে, কাঁধে শাড়ির আঁচল, কপালে চন্দনের টিপ। সে বলল, “আমার নাম রাজকুমারী পদ্মিনী। আমায় কেউ মনে রাখেনি।” তার চোখে জল। কিন্তু কেন?
পদ্মিনী বলল, “এই গাছের নিচেই এক সময় আমার রাজপ্রাসাদ ছিল। তবে এক অভিশাপে সব হারিয়ে গেছি।” নয়নের মন খারাপ হয়ে গেল। সে বলল, “আমি তোমার গল্প সবাইকে বলব।” তখনই হাওয়া বদলে গেল...
আকাশে হঠাৎ চাঁদের চারপাশে তৈরি হল রূপালি মুকুট! পদ্মিনী হাঁসলো। “তুই কথা রাখলে, আমি মুক্তি পাব।” নয়নের চোখে তখনও বিস্ময়। সে কিচ্ছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল হাওয়ায়।
পরদিন নয়নের মা দেখলেন, ছেলের হাতের তালুতে ছোট্ট চন্দনের টিপ! সে চুপচাপ গাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। গ্রামের লোকেরা বলে, সেদিন থেকে ঝিলের পাশে ফুল ফোটে অন্ধকারে। পদ্মিনীর ছোঁয়া এখনও কি রয়ে গেছে?
নয়ন বড় হয়, লেখক হয়। সে লেখে এক রহস্যময় রাজকুমারীর কথা—যাকে কেউ ভুলে গিয়েছিল।
আর তার প্রতিটা বইয়ের শেষে থাকে এক বাক্য: "যদি তুমি মন দিয়ে শোনো, গল্পরা হারায় না।"