নৈশ ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে, শান্তিনিকেতন স্টেশনে একটা হালকা কুয়াশা। পাটের ব্যাগ কাঁধে, তন্ময় তাকিয়ে রইল চা-ওয়ালার দিকে। কিন্তু তার চোখ খুঁজছিল কাউকে… যে হয়তো আর আসবে না।
ছ’ বছর আগে ঠিক এই প্ল্যাটফর্মে তারা শেষ দেখা করেছিল। কৌশানীর চোখে জল ছিল, আর তন্ময়ের হাতে ছিল অক্ষমতা। কেবল একটা কথাও বলেনি—“থেকে যা।” সেটা বললেই হয়তো গল্পটা বদলে যেত।
হঠাৎ announcement—“অপুর্ব এক্সপ্রেস তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসছে।” তন্ময় চমকে ওঠে। ঠিক এই ট্রেনেই সে একদিন কৌশানীকে বিদায় দিয়েছিল। হঠাৎ একটা চেনা গন্ধে বুকটা কেঁপে ওঠে… নাকি কল্পনা?
সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়… আর দেখে—স্টেশনের এক কোণে দাঁড়িয়ে কৌশানী। সেই পুরনো নীল শালে, চোখে অনেক প্রশ্ন। ছ’ বছরের দূরত্ব তাদের মাঝখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে।
তন্ময় এগিয়ে যায়। “তুমি তো...?” কৌশানী কাঁপা গলায় বলে, “চিঠিগুলো পেয়েছিলে?”তন্ময় মাথা নাড়ে—“না।” কৌশানী হাসে তিক্তভাবে—“তাই বুঝেছিলাম।” তাদের মাঝখানে তখন চলন্ত ট্রেনের গর্জন।
“শেষ ট্রেনটা মিস করবি না?”—কৌশানী জিজ্ঞেস করে। তন্ময় চুপচাপ বলে—“হয়তো মিস করবো, কিন্তু আরেকটা তো আসবে না।” চোখে তখন দুজনার পুরনো রাত্রির আলো—অব্যক্ত, গভীর।
চা-ওয়ালা বলল, “দাদা, এক কাপ?” তন্ময় বলল, “দু'কাপ দাও।” পাশে কৌশানী বসে। ট্রেন চলে যায়, রাত গাঢ় হয়। কিন্তু সেই স্টেশনে দুটো প্রাণ, আবার একসাথে চুপচাপ বসে—শেষ ট্রেনের আগেই।