একটা সুযোগ

শীতের শেষ রাতে মালতি কাঁপতে কাঁপতে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। চোখে জল, হাতে একটা ফাটা ব্যাগ। জীবনের সবকিছু হারিয়ে আজ শহর ছাড়তে চলেছে। তবে এই ট্রেনটাই কি শেষ? না, শুরু?

চার বছর আগে এই শহরেই পা রেখেছিল মালতি—স্বপ্ন, সাহস আর সেলাইমেশিন নিয়ে। প্রতিশ্রুতি ছিল নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব যে আলাদা রাস্তায় চলে!

মেশিন বিকল, দোকান বন্ধ, লোকজন ফেলে চলে গেছে। দিন কাটে অন্যের বাসন মাজতে। মালতি ভাবত, “এটাই কি আমার কপাল?” তবু একটা কাগজ তার ব্যাগে আজও ভাঁজ করে রাখা—সেই ব্যবসার লাইসেন্স!

ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে ফোনটা বেজে উঠল— “দিদি, আপনি কি আবার কাজ শুরু করবেন? আপনার কাটা ব্লাউজটা আমার বিয়েতে পরেছিলাম… আপনি ছাড়লে আমরা কার কাছে যাব?” মালতির চোখে জল গড়িয়ে পড়ল।

ট্রেনের হুইসেল বাজছে। মালতি উঠে দাঁড়াল, ব্যাগটা হাতে নিল। ট্রেনের দিকে একবার তাকিয়ে বলল, “আমি পালাতে আসিনি। ফিরে যাচ্ছি আবার লড়তে।” টিকিটটা ছিঁড়ে ফেলে দিল।

পৌঁছাল নিজের ঘরে—ধুলো, জঞ্জাল আর নষ্ট সেলাইমেশিন। কিন্তু এবার ভয় নেই। নিজের হাতেই রঙ তুলল মেশিনটায়, জানলাটা খুলে দিল, আর লাইসেন্সের কাগজ টানিয়ে দিল দেওয়ালে।

কয়েক মাস পর, সেই ঘরটাই আজ ‘মালতির সৃষ্টি’ নামে পরিচিত। পাশের গ্রামের মেয়েরা কাজ শেখে, নিজের টাকা রোজগার করে। মালতি জানে—শেষ ট্রেনটা তাকে নিয়ে যায়নি, বরং ফিরিয়ে এনেছিল ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে থেকে সব আবার শুরু হয়।

অন্তর্ধান