হঠাৎ ঘণ্টা নিজে নিজে বেজে উঠল। সিঁড়ির ভেজা ছাপগুলো এগিয়ে এসে তার পায়ের কাছে থামল। অনির্বাণ দম আটকে দাঁড়াল, মনে পড়ল দাদুর কথা—এই পূর্ণিমায় যারা ডাকে সাড়া দেয়, তারা আর ফেরে না। মন্দির নিস্তব্ধ শ্বাস নিল।
দেবীমূর্তির ছায়া লম্বা হয়ে মেঝেতে গড়াল। চোখ দুটো ভিজে চকচকাল। অনির্বাণ পালাতে ঘুরতেই দরজা বন্ধ, বাইরে কুয়াশার ভেতর যেন কেউ দাঁড়িয়ে তার নাম জানে বহুদিনের মতো। হাওয়া হঠাৎ থমকে ভারী হলো। ঘণ্টা আবার কাঁপল।
ফিসফিস বদলে গেল কান্নায়। ‘আমায় বাড়ি পৌঁছে দে,’ বলল অচেনা কণ্ঠ। কুয়াশা সরে দাঁড়াল এক নারীর অবয়ব, শাঁখা-সিঁদুর ম্লান, পায়ে ছাপ নেই—তবু চোখে অনুরোধ তীব্র। মায়ের মুখ মনে পড়ে গেল। রাত আরও ঘন হল।
অনির্বাণ হাত বাড়াল। স্পর্শে বরফের শীতলতা। নারী হাসল, মন্দিরের আলো নিভে গেল। বাইরে গ্রামের পথ অচেনা, ঘরগুলো উল্টো মুখে, আর তার ছায়া মাটিতে পড়ছে না—হৃদয় ধুকধুক। ঘণ্টার প্রতিধ্বনি দূরে ডাকে। ফিরবার পথ হারায় সে।
ভোরে মায়েরা মন্দিরে প্রদীপ জ্বালাল। পাথরের সিঁড়িতে নতুন ভেজা ছাপ, পাশে অনির্বাণের চটি। দেবীর চোখ শান্ত। কেউ বলে, পূর্ণিমায় ঘণ্টা ডাকে এখনো—যে হাত ধরেছিল, সে-ই থেকে যায়। কুয়াশা আবার নামে ধীরে। গ্রাম নীরব থাকে।