জয়পুর — সাঁওতাল পর্বতের পায়ে নিঃশব্দ এক গ্রাম। তার কিনার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে এক শতবর্ষী অপরাজিতা গাছ। রাতের আঁধারে ফুল ফোটে, নীল… গাঢ় নীল। লোকের বিশ্বাস—এর ফুল কারও ‘নিজস্ব’ হলে, মুখ ফিরে আসে… বিকৃত হয়ে।
শহর থেকে এসেছেন বিলাস, এক রিসোর্ট ডেভেলপার। হাসলেন, “ভূত? গাছের অভিশাপ?” পায়ে পিষলেন শুকনো অপরাজিতা, আর বললেন— “এই জমি আমার হবে। গাছটা কাল কেটে ফেলো।” চারপাশটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। যেন গন্ধ ছড়াল—ভেজা ফুলের, কিন্তু তীব্র… অস্বস্তিকর।
রাতে বিলাস ঘুমোতে পারলেন না। জানালার কাচে ভেসে উঠল নিজেকে—অদ্ভুত বিকৃত মুখে। চোখের নিচে নীল পাপড়ি, ঠোঁট ফেটে ফুলে উঠেছে অপরাজিতা! চোখ বন্ধ করলেন। কিন্তু নাকে ঢুকল সেই গন্ধ—তীব্র, মিষ্টি, অসহ্য!
ভোরবেলা পুকুরের ধারে মুখ ধুচ্ছেন। জল দেখলেন—নিজের প্রতিচ্ছবি… সে তো মানুষ নয়! ফুলে ফুলে ঢাকা মুখ! চোখ থেকে নেমে পড়ছে পাপড়ি! পেছনে কারা যেন ফিসফিস করছে— “ফুল নিজের করেছো, মুখ ফিরবেই...”
বিলাস ছুটে গেল গ্রামের পুরোনো পুরোহিতের কাছে। কাঁপা গলায় বললেন, “আমি ভুল করেছি... কী করব এখন?” পুরোহিত তাকালেন—দৃষ্টিতে করুণা। “অপরাজিতা নেয় না, ফিরিয়ে দেয়। তবে যেভাবে চাও, সে ভাবে নয়।” বিলাসের শরীরজুড়ে গন্ধ আরও ঘন হচ্ছে…
সন্ধ্যায় পুকুরে ভেসে উঠল এক দেহ—চোখমুখে নীল ফুল ফুটে আছে। তার নাকে-মুখে গুঁজে থাকা অপরাজিতা যেন বলছে— “আমি শুধু সৌন্দর্য নই... আমি প্রতিশোধও।”জয়পুরে আর কেউ ফুল ছেঁড়ে না। শুধু গন্ধটা… আজও বাতাসে ভেসে থাকে।