শহরের প্রান্তে পুরনো ডুপ্লেক্স বাড়িটির বারান্দায় বসে অরুণিমা। হঠাৎ এলো একটি বেনামী চিঠি, হাতে লেখা। "তুমি যাকে খুঁজছো, সে তোমার খুব কাছেই আছে। কিন্তু সে অন্ধকার ভালোবাসে।" চিঠিটা পড়তেই তার বুকটা কেঁপে উঠলো।
বাবার ডায়েরির শেষ পাতায় আঁকা সেই একই প্রতীক—অন্ধকারে ঢাকা একটি ভাঙা চাঁদ। এ তো কেবল কাকতালীয় হতে পারে না! দশ বছর আগে নিরুদ্দেশ হওয়া ভাইয়ের স্মৃতি তাকে আবার তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সে কি তবে সত্যিই ফিরছে?
রাত তখন দুটো। দোতলার ঘর থেকে কিসের যেন খসখস শব্দ। কাঁপতে কাঁপতে অরুণিমা লাইটটা জ্বালালো। টেবিলের ওপর রাখা তার ছোটবেলার প্রিয় খেলনা গাড়িটি—যা সে যত্ন করে তুলে রেখেছিল। কে স্পর্শ করলো এটা?
গাড়ির চাকার নিচে ভাঁজ করা একটি হলুদ সুতো। ঠিক যেমনটা তার ভাই রাখি পরার সময় বেঁধেছিল। সুতোটার অন্য প্রান্ত জানালার গ্রিলে বাঁধা। কেউ তাকে কিছু ইঙ্গিত দিতে চাইছে, কিন্তু কীসের ইঙ্গিত?
সুতো ধরে বারান্দা থেকে নেমে এলো সে। উঠোনে ঘন তুলসী গাছটার ছায়া যেন কিসের অপেক্ষা করছে। চারপাশ একদম নিস্তব্ধ। বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে অরুণিমার। একটু এগিয়ে যেতেই দেখল, মাটিতে একটি মানুষের পায়ের ছাপ।
পায়ে ছাপটি যেন ভেজা কাদার। অরুণিমা পেছনে ফিরল, সিঁড়ির ধাপে স্পষ্ট সেই কাদার দাগ। তার মানে সে ভিতরে এসেছিল! নিঃশ্বাস চেপে দরজার দিকে তাকালো সে। দরজাটা অল্প খোলা, আর কেউ যেন তার দিকে দেখছে...।
অরুণিমা দ্রুত দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতেই দেখল, বিছানার ওপর পড়ে আছে বাবার সেই পুরনো ডায়েরি। শেষ পাতায় লেখা—"ভয় পেও না, আমি তোমার সঙ্গেই আছি।" কিন্তু কে এই 'আমি'? দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াটা কি তার ভাই?