শেষ ঠিকানা

রাত দশটা। কলকাতার ব্যস্ত রাস্তা তখন ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে। শঙ্খর হাতে পুরোনো চামড়ার ব্যাগ নিয়ে ফিরছিল। ব্যাগটা যেন অদ্ভুত ভারী। হঠাৎ পেছনে ভেসে এলো মৃদু পদশব্দ। কে অনুসরণ করছে?

শঙ্খর থামল। রাস্তার আলো টিমটিম করছে। পিছনে তাকাতেই কারও ছায়া মিলিয়ে গেল মোড়ের অন্ধকারে। বুক ধড়ফড় করছে। ব্যাগের ভেতর থেকে ধাতব শব্দ ভেসে উঠল। ওটা কীভাবে শব্দ করছে?

মনে পড়ল বিকেলের সেই অচেনা লোকটার কথা। রেলস্টেশনে গোপনে ব্যাগটা দিয়েছিল হাতে—"যত দামে হোক, পৌঁছে দাও এই ঠিকানায়।" কাগজের টুকরোটা মুঠোয় শক্ত করে ধরল শঙ্খর। কিন্তু ভিতরে কী আছে?

রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো চায়ের দোকানদার হঠাৎ ফিসফিস করে বলল, "ওই ব্যাগ নিয়ে সাবধানে থাকুন বাবু, সবাই ফিরতে পারে না।" শঙ্খরের বুক কেঁপে উঠল। এ লোক কীভাবে জানল ব্যাগের কথা?

শঙ্খর দৌড় শুরু করল। আকাশে হালকা বজ্রঝলকানি। অন্ধকার গলিপথে ঢুকতেই সামনের দেয়ালে লাল কালি দিয়ে লেখা—“পৌঁছালে মরবে।” হাত থেকে ব্যাগটা ছাড়তে গিয়েও থেমে গেল। ফেলে দিলে কি মুক্তি?

দূরে সাইরেনের আওয়াজ। পুলিশ? নাকি ওরা আসছে? ব্যাগটা শক্ত করে বুকে চেপে ধরল শঙ্খর। আচমকা ব্যাগের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ! শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সত্যিই কি ওটা বাচ্চা?

ঠিকানার বাড়ির দরজায় দাঁড়াতেই ভেতর থেকে খুলে গেল তালা। এক মহিলা ফিসফিস করে বললেন, “তুমি দেরি করেছ। ওরা এখন তোমাকেই খুঁজবে।” আলো নিভে গেল। শঙ্খরের চিৎকার অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

আবছা পা