শেষ ট্রেনের গল্প

শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে অরুণ কাঁপছে ঠাণ্ডায়। রাত ১১টা বেজে গেছে। শেষ ট্রেনটা যদি মিস হয়, আজ আর বাড়ি ফেরা হবে না। কিন্তু তার অপেক্ষা করছে একটা অসমাপ্ত গল্প...

চারমাস হলো চাকরি গেছে। ঘরে অসুস্থ মা। প্রতিদিন শহরে ঘুরে ঘুরে কাজ খোঁজে অরুণ। আজ এক অফিস বলেছে—"কাল ৯টায় দেখা করুন।" সুযোগ একটাই। কিন্তু মনটা অজানা আতঙ্কে ভারী।

ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে দূরে। আচমকা এক বৃদ্ধা এসে বলে, "বাবা, একটু সাহায্য করবি? চোখে দেখি না, প্ল্যাটফর্মটা পার করে দে।" ট্রেনটা এসে পড়ছে! অরুণ দোলাচলে পড়ে যায়...

একদিকে স্বপ্নের চাকরি, আরেকদিকে একজন অসহায় মানুষ। অরুণ দৌড়ে গিয়ে বৃদ্ধার হাত ধরে, সাবধানে প্ল্যাটফর্ম পার করায়। ট্রেনটা ততক্ষণে সীটি বাজিয়ে ছাড়ে। এক মুহূর্তে ভেঙে যায় সব আশাভরসা।

বৃদ্ধা মৃদু হাসেন, বলেন—"তুই আজ মানুষ রয়ে গেলি। সব সময় সুবিধে খোঁজার দৌড়ে সবাই মানুষ হতে ভুলে যায়।" অরুণ চুপ, গলা ধরে আসে। কিন্তু সামনে শুধু অন্ধকার।

হতাশ হয়ে যখন ঘুরে ফিরে যাচ্ছে, এক অফিসার কাছে এসে বলে—"তুমি কি বৃদ্ধাকে সাহায্য করেছিলে?" চমকে উঠে অরুণ। অফিসার বললেন, "ও আমার মা। কাল তোমার ইন্টারভিউটা আমার অফিসেই।"

অরুণের চোখে জল। ভালোবাসা, সহানুভূতির মূল্য কখনও কখনও দেরিতে মিললেও, তা হারায় না। ট্রেন মিস হলেও, জীবনের ঠিক ট্রেনটা ঠিক সময়ে এসে দাঁড়ায়... যদি মনটা ঠিক পথে চলে।

চিঠিটা কে পাঠালো?