স্মৃতির শেষ আলো

সন্ধ্যার হাওয়া মুখে এসে লাগে, আর রোহিতের চোখে জ্বলে ওঠে ভালোবাসার আলো। প্রিয়াঙ্কা তখন একটা রবীন্দ্রসংগীত গুনগুন করছিল। তাদের কথা, হাটা, আর কবিতার ছায়ায়—জন্ম নেয় এক নিঃশব্দ প্রেম। কিন্তু সেই শান্তজলেও লুকিয়ে ছিল এক অজানা ঝড়।

সাউথ কলকাতার ছোট্ট ফ্ল্যাটে বইয়ের স্তূপ আর কফির কাপের ভেতর ছিল তাদের সংসার। রাতে জানালার পাশে বসে দু’জনে একসাথে কবিতা পড়ত, হাসত, স্বপ্ন দেখত। কিন্তু সেই স্বপ্নে চুপিচুপি ঢুকে পড়ছিল এক অদৃশ্য ছায়া…

প্রথমে রোহিত কবিতার লাইন ভুলে ফেলল, তারপর প্রিয় অ্যাড্রেস। প্রিয়াঙ্কা ভেবেছিল, ক্লান্তি—তুচ্ছ কিছু। ডাক্তারের চুপচাপ মুখ দেখে বুঝেছিল—জীবনের বইটা এবার অন্য পথে মোড় নিচ্ছে। রোহিতের স্মৃতি, যেন পাতা ঝরা শরতের মতো ঝরে পড়ছিল।

রোহিত তাকে চিনতে পারছে না—প্রিয়াঙ্কার মুখেও এখন প্রশ্নবোধক চিহ্ন। তবুও সে হার মানে না। সে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজায়, ছবি দেখায়, তাদের গল্প আবার বলে যায়। যেন একমাত্র ভালোবাসাই পারে অন্ধকারে আলো জ্বালাতে।

একদিন গান শুনে রোহিত বলল, "এই গানটা… চেনা লাগে…" প্রিয়াঙ্কার চোখ ভিজে গেল। এক ফোঁটা স্মৃতি ফিরে এলো যেন হাজার বছরের পথ পেরিয়ে। তবু পরক্ষণেই সব আবার নিঃশব্দ। ভালোবাসা তখন শুধুই অপেক্ষা।

রোহিত আয়নায় নিজের মুখ চেনে না, প্রিয়াঙ্কাকে তো দূর অস্ত। তবুও, প্রতিদিন সে বলে—"তুমি আসো কেন?" প্রিয়াঙ্কা হাসে, চোখে জল লুকিয়ে। সে বলে, "কারণ তুমিই তো আমার কবিতা।" ভালোবাসা তখন শুধু দেওয়ার নাম।

এক সন্ধ্যায়, দিঘার সেই পুরোনো ছবির দিকে তাকিয়ে রোহিত বলল, "ও মেয়েটি… আমার?" প্রিয়াঙ্কা কেঁদে ফেলল—বুকে যেন ফের জ্বলে উঠল হারানো প্রদীপ। যতক্ষণ হৃদয় জাগে, ততক্ষণ স্মৃতি বাঁচে। ভালোবাসা—স্মৃতির শেষ আলো হয়ে থাকে চিরন্তন।

অনিচ্ছুক নেতা