ভুতের গল্প: এক ভৌতিক গ্রামের রহস্যময় ঘটনা, হারিয়ে যাওয়া মেয়ে, অপূর্ণ ইচ্ছা, এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা ও শান্তির গল্প। বাংলা গল্প।

ফুলঝাড়ির নিশির ডাক

ভুতের গল্প: এক ভৌতিক গ্রামের রহস্যময় ঘটনা, হারিয়ে যাওয়া মেয়ে, অপূর্ণ ইচ্ছা, এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা ও শান্তির গল্প। বাংলা গল্প।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা-র গভীর জঙ্গল সুন্দরবনের অতীত গহীনে, লুকিয়ে আছে ফুলঝাড়ি নামের এক নিভৃত গ্রাম। রহস্যময় সুন্দরবনের জঙ্গলে আবদ্ধ, সরু নদী আর খাল দ্বারা খাঁজকাটা এই গ্রামের ইতিহাসে লুকিয়ে আছে শতাব্দী প্রাচীন এক ভূতের গল্প।

অল্পবয়স্ক নৃতত্ত্ববিদ অর্জুন মুখোপাধ্যায়, স্থানীয় লোককাহিনী নিয়ে গভীর কৌতূহলে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফুলঝাড়িতে এসেছিল গ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নথিবদ্ধ করতে। গ্রামের প্রধান, সুবোধ তাকে সাদরে বরণ করে নিজের বাড়িতেই থাকার জায়গা দিলেন। গ্রামবাসীরা বেশ মিশুকে, কিন্তু তাদের চোখে এক অগাধ, অব্যক্ত ভয়ের ছায়া লুকিয়ে আছে। গ্রাম ঘুরে বেড়ানোর সময় অর্জুন কানে আসতে লাগলো “নিশির ডাক” নামে পরিচিত এক প্রতিশোধধর্মী আত্মার কথা। কিংবদন্তি, নিশা নামের প্রতারিতা এক নারীর আত্মা রাতে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়, তার করুণ আর্তনাদে লোকজনকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়, আর কখনো দেখা মেলে না। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, নিশাকে তার প্রেমিক প্রতারিত করে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিল, যেখানে তার মৃত্যু হয় এক ভয়ঙ্কর পরিণতির মধ্য দিয়ে।

অর্জুনের সন্দেহের জল্পনা শুরু হয় যখন সে অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হয়: এক রাতে, সে এক নারীর ভূতপ্রেত আত্মার ডাক শুনে এবং জঙ্গলের ধারে সাদা পোশাক পরিহিত এক আত্মীয় আবছা মূর্তি দেখতে পায়। সত্য উদঘাটনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অর্জুন গ্রামের ইতিহাস থেকে করে জানতে পারে যে বছরের পর বছর, বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে, কয়েকজন গ্রামবাসী নিখোঁজ হয়ে গেছে। পরবর্তী পূর্ণিমা আসন্ন হতে থাকলে, অর্জুন আত্মার সাথে মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে গ্রামের প্রবীণদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, যার মধ্যে জঙ্গলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত “কেওড়া গাছ” এর ক্ষমতা সম্পর্কে একটি রহস্যময় সতর্কীকরণও ছিল। কিংবদন্তি অনুসারে, এই গাছটির নিচেই নিশাকে শেষবারের মত দেখা গিয়েছিল, এবং বিশ্বাস করা হয় যে এটিই তার অশান্তির উৎস।

রহস্য-রোমাঞ্চ বাংলা ছোট গল্প - কলিকাতার অন্ধকার গলি : এই বাংলা গল্পটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক অনন্যা সেনের রোমাঞ্চকর অভিযানের কথা বর্ণনা করে।  কলকাতার জমিদার বাড়িতে লুকিয়ে থাকা অপরাধ চক্র "অতীতের রক্ষক"দের রহস্য উদঘাটন করতে লড়াই করেন তিনি। এই লিংকটি ক্লিক করে সম্পুর্ন্য রহস্য রোমাঞ্চ বাংলা ছোট গল্পটি পড়ুন।

অবশেষে আসে সেই পূর্ণিমার রাত, অর্জুন এক রাত্রি ৮ টার দিকে এক সেই গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে। চারিদিকে অদ্ভুত নিস্তব্দতার মাঝে সে একটা চাপা আর্তনাদের শব্দ অনুভব করে। তার মেরুদণ্ড দিয়ে একটা ঠান্ডা রক্তের স্রোত বয়ে যায়। গায়ের লোমগুলি খাড়া হয়ে ওঠে। তবুও নিজেকে কোনোভাবে স্যাম্পল নিয়ে, মনে সাহস নিয়ে সে প্রাচীন কেওড়া গাছের কাছে পৌঁছায়। জঙ্গলে সাপের ভয়ে অর্জুন একটা মোটা লাঠি নিয়ে এসেছিল, লাঠিটা গাছে ঠেকিয়ে দিয়ে কেওড়া গাছের নিচে একটা আসন পেতে বসে নিশার আত্মার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কেওড়া গাছের কাছে চাঁদের আলো পড়ছিল তাই তার আসে পাশে সবকিছু খুব স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল। সুবোধ বাবু অর্জুনকে কিছু খাওয়ার ও একটি ২ লিটার জলের বোতল দিয়েছিল। প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর অর্জুন খাওয়ার খেতে শুরু করলো। খাওয়া দাওয়া শেষ করে অর্জুন গাছে হেলেন দিয়ে জিরোতে লাগলো। এইভাবে বসতে বসতে সে নিজে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল বুঝতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর একটা অস্বাভাবিক কান্নার স্বরে অর্জুনের ঘুম ভেঙে যায়। সে চারিদিকে একটা ঠান্ডা বাতাস অনুভব করে। 

অর্জুনের বুকটা দুরু দুরু করে উঠলো, তবুও মনে কোনোভাবে সাহস নিয়ে লাঠিটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। এমন সময় একটা আবছা অশররী তার সামনে ধীরে ধীরে স্পস্ট হতে লাগলো। অর্জুনের বুঝতে অসুবিধা হলো না যে সেই অশররী-এর মূর্ত্তিটা নিশার।  নিশা, কালো চুল ঢাকা সাদা শাড়িতে, চোখে অসীম দুঃখ। অর্জুন কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলো; “কে ওখানে?”

একটা ভয়ঙ্কর বিকট হাঁসি হেঁসে অশররী বলে উঠলো, “আমি নিশা, তুই কে? এখানে কেন এসেছিস?”

– আমি অর্জুন। আমি এখানে তোমার সাথে কথা বলতে এসেছি, তোমার সাথে কি হয়েছিল জানতে এসেছি।  

– চলে যা এখন থেকে। না হলে তোর’ও সবার মতো খারাপ অবস্থা করবো। 

– সে তুমি আমার সাথে যাই করো’না কেন, আমি  জানতে চাই কি হয়েছিল তোমার সাথে?

নিশা একটু শান্ত হয়ে বলতে শুরু করলো,

বাংলা রোমান্টিক ছোট গল্প - ছবির গল্প, লেখার সুর : খুঁজছেন এক মন ছোঁয়া বাংলা গল্প? আবির, এক ফটোগ্রাফার, রাধিকার হাসিতে মুগ্ধ হয়, কিন্তু তার প্রেম জটিল। নেপালের পাহাড়ে কি তাদের প্রেম সফল হবে? এই লিংকটি ক্লিক করে সম্পুর্ন্য রোমান্টিক বাংলা ছোট গল্পটি পড়ুন।

আচ্ছা শোন, আমার তখন বয়স ১৯-২০ হবে, আমি তখন কলেজ-এ পড়ি, সেই সময় আমার সাথে পরিচয় হয় পাশের গ্রামের সুধীরের সাথে। সুধীর একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিল। সুধীর’কে দেখে আমার প্রথমের দিকে ভালো লাগেনি, কিন্তু সুধীর সবসময় আমাকে ফলো করতো। কলেজে যাওয়ার সময় আমার সাইকেলের পেছনে বাইক নিয়ে আসতো। প্রথমের দিকে আমার খুব অস্বস্তি লাগতো। কিন্তু তা’ও ওই বয়সে আমার মনে কোথাও একটু একটু করে ওকে ভালোবাসতে শুরু করেছিলাম। একদিন সুধীর আমাকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে আমার মোবাইল নাম্বার চাই। আমি প্রথমে দিতে রাজি না হলেও পরে দিয়ে দিই। আমাদের মাঝে মোবাইল এ কথা-বার্তা শুরু হয়। ক্রমশ আমাদের মধ্যে সম্পর্ক বাড়তে থাকে।

একদিন রাতে আমার বাবা হটাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়িতে তখন আমি আর মা, রাত তখন ১ টা হবে, এতরাতে আমরা দিশেহারা। আমাদের দুটো ঘর পরে ডাক্তার অজিত কাকু থাকতো। আমি উনাকে ডাক্তার কাকু বলে ডাকতাম। রাতে ডাক্তার কাকু কে ডেকে নিয়ে এলাম। ডাক্তার কাকু বাবাকে চেক করার পর বললো এক্ষুনি কলকাতা নিয়ে যেতে হবে। দুটো ইনজেকশন দিয়ে আমাদেরকে বললো যে কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করতে। আমি কোনোকিছু না ভেবে সুধীরকে ফোন করলাম। সুধীর ৩০ মিনিটের মধ্যে একটা আটো নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে এলো ডাক্তার কাকু আমি আর সুধীর তিনজন মিলে বাবাকে নিয়ে খেয়া ঘাটে নিয়ে গেলাম। সুধীর একটা খেয়া আগে থেকেই রেডি করে রেখেছিলো। খেয়া পেরিয়ে একটা গাড়ি করে আমরা পৌছালাম কলকাতা মেডিকেল কলেজ -এ। সুধীর’ই সব ব্যবস্থা করেছিল। ৫-৭ দিন পর আমরা বাবাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরলাম। সুধীর ওই ক দিন আমার সাথেই ছিল। ওই ঘটনার পর থেকে সুধীর এর প্রতি আমার ভালোবাসা আরো গভীর হতে থাকে।

আমাদের মধ্যে সবকিছুই খুব স্বাভাবিক ভাবে চলছিল। ৩-৪ মাস পরে আমাদের এলাকায় পঞ্চায়েত ভোটার প্রস্তুতি শুরু হয়। সুধীর ভোটার প্রচারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আমি সেটা বুঝেই ওর সাথে ওই সময়টার জন্য কথা-বার্তা একটু কমিয়ে দেই। ভোটের ৩ দিন আগে আমি টিউসন পড়ে সন্ধ্যা ৮ টার দিকে গ্রামের পার্টি অফিস এর পাশ দিয়ে আসছিলাম। আমি প্রতিদিনই ওই পাশ দিয়ে আসতাম কিন্তু সেদিন পার্টি অফিসের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক কথাবার্তা আমার কানে এল। আমি কৌতূহল বসত ওখানে চুপিসারে কাছে গিয়ে ওদের মধ্যে কথাবার্তা শুনতে চাইলাম। আমি স্পস্ট শুনতে পেলাম ওদের মধ্যে একজন বলছে, “সুধীর; তুই বন্ধুক আর পেটো গুলো সব জায়গায় পৌঁছে দিবি।” আমি শুনেই চমকে উঠলাম। জানলা টা হালকা খোলা ছিল, আমি মনে সাহস নিয়ে জানলা দিয়ে ভেতরটা দেখতে চেষ্টা করলাম। আর একটু কাছে গিয়ে ভেতরে দেখি, আমাদের এলাকার এম এল এ প্রকাশ বিশ্বাস, সুধীর ও বারকয়েক জন গুন্ডা মতো লোক নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। মেঝেতে প্রায় ১৫-২০ টা বন্ধুক ও ২ তো চটের বস্তাতে অনেকগুলো হাতবোমা পড়ে আছে।

আমি আমার সাইকেলটা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এসেছিলাম। এইসব দেখে ভয়ে আমার শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা রক্ত বইতে শুরু করলো, শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল, সুধীরের প্রতি একটা ঘৃণা জন্মাতে শুরু করলো। ঠিক সেই সময় বাতাসে আমার সাইকেলটা পড়ে গেলো। ওই শব্দে সুধীর ভেতর থেকে বোল্টেড বলতে বেরিয়ে এলো, “কে? কে ওখানে?” আমি কোনো রকম ছুটে সাইকেলটা তুলে ওখান থেকে পালিয়ে এলাম। সাইকেলে উঠতে উঠতে শুনলাম, সুধীর কাকে যেন বলছে, “ও নিশা। আমি ওকে চিনি এই গ্রামের রমেশ বাবুর মেয়ে। চিন্তার কিছু নেই। আমি সামলে নেবো।” 

আমি বাড়ি ফিরে হাত মুখ ধুয়ে কিছু না খেয়ে শুয়ে পারলাম। ভয়ে বাড়িতে ও কাউকে কিছু বললাম না। সেইদিন রাতে প্রায় ১২ টার দিকে আমাদের বাড়ির সামনে কয়েটি বাইক এসে দাঁড়ায়। আমাদের দরজায় নক করে। মা দরজার কাছে শুয়ে ছিল মা দরজা খুলতেই মা কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল, সোজা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। ওরা সংখ্যায় ৫-৬ ছিল, ওদের সবার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল, সবার হাতে বন্ধুক ছিল। আমি আর মা চিৎকার করে উঠলাম, ওদের মধ্যে একজন বলে উঠলো, “মেয়েটাকে তোল।” বাবাও ততক্ষনে উঠে পড়েছিল। দুজন আমার বাবা ও মায়ের মাথার দিকে বন্ধুক ধরে ছিল। একজন আমার হাত চেপে টানতে টানতে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গেল। পাশের বাড়ির লোকেরাও তখন সেই চিৎকারে উঠে পড়েছে; কিন্তু অর্ডার হাতে বন্ধুক দেখে সবাই বাড়ির ভেতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ছিল।

আমাকে ওরা বাইকে তুলে এই খানে নিয়ে আসে। আমাকে এই কেওড়া গাছের নিচে ফেলে মোটা লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। সেদিন’ও আজকের মতো পূর্ণিমার রাত ছিল। আমি ওই চাঁদের আলোয় ওদের মধ্যে সুধীর কে দেখতে পাই। আমি মাটি থেকে কোনোভাবে উঠে সুধীরকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলাম এমন সময় এলাকার এম এল এ প্রকাশ বিশ্বাস ও ওদের মধ্যে দেখতে পাই। এম এল এ প্রকাশ বিশ্বাস সুধীরকে ইশারা করে, সুধীর আমার দিকে বন্ধুক তাকে করে আমার মাথায় গুলি করে। 

কথাটা শেষ করে নিশার অশরীরী আত্মা কাঁদতে শুরু করে।  নিশার এই করুন আর্ত্মনাদ শুনে অর্জুনের চোখে ও জল চলে আসে। অর্জুনের মনে আর ভয় নেই, নিশার প্রতি একটা সহানুভূতি জেগেছে। অর্জুন কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে নিশাকে জিজ্ঞেস করলো, “ওরা তোমাকে মারার পর, তোমার বডি নিয়ে কি করলো?”

– ওরা আমার বডি এই গাছের তলায় পুঁতে রেখেছে। 

কথাটা শুনে অর্জুন চমকে ওখান থেকে সরে এলো। অর্জুন আবার বলতে শুরু করলো, “তোমার সংগে সুধীর ও এম এল এ অন্যায় করেছে, তাহলে তুমি গ্রামের লোকেদের সাজা দিচ্ছ কেন? ওরা তো কিছু অন্যায় করেনি?”

– সবাই কাপুরুষ, কেউ আমার বাবা মার্ পশে দাঁড়ায়নি। কেউ সুবিচার দেয়নি। সবাই বিক্রি হয়ে গেছে। 

– তাই বলে তুমি গ্রামের নিরীহ মানুষদের মেরে ফেলবে?

– আমি কাউকে মারিনি, সবাই বেঁচে আছে। আমি শুধু বিচারের অপেক্ষায় আছি। 

অর্জুন মনে সাহস নিয়ে নিশাকে বললো, ” তুমি সুবিচার পাবে, আমি তোমাকে সুবিচার দেব। কিন্তু আমি প্রমান করবো কি করে যে সুধীর ও এম এল এ মিলে তোমাকে খুন করেছে!”

– সব এই মাটির নিচে আছে। সব প্রমান পাওয়া যাবে। 

অর্জুন বললো, “তাহলে তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমি ওদেরকে শাস্তি দেব, তোমাকে কথা দিতে হবে গ্রামের নিখোঁজ মানুষদের খোঁজ দিতে হবে।”

– আচ্ছা ঠিক আছে। 

বাংলা ছোট গল্প - ফাঁকা ঘরের গল্প: ছেলের ফাঁকা ঘরটা যেন জাদুঘর, অতীতের সাক্ষী। এই মা কিভাবে মেনে নেবেন ছেলের বিচ্ছেদ? আর ছেলের স্বপ্নের পথে তিনি কীভাবে হবেন তার সহায়? জানতে হলে পড়ুন বাংলা ছোট গল্প, "ফাঁকা ঘরের গল্প"

কথাটা শেষ করে নিশার অশরীরী আত্মাটা বাতাসের সাথে মিলিয়ে গেলো। তখন প্রায় ভোর হয়ে এসেছে, অর্জুন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে সোজা সুবোধ বাবুর কাছে গেলো। সুবোধবাবু ও গ্রামের লোক অর্জুনকে ফিরে আসতে দেখে খুব খুশি হল। এই প্রথমবার কেউ রাতে জঙ্গলে গিয়ে জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। অর্জুন সময় নষ্ট না করে সুবোধবাবু ও গ্রামের লোকেদের সব কথা খুলে বললো, সবাই মিলে পুলিশ এর কাছে গেলো। অর্জুন, সুবোধ বাবু, পুলিশের ফরেনসিক টিম ও গ্রামের কয়েকজন মিলে জঙ্গলে ওই কেওড়া গাছের তলায় গিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করলো। কিছুক্ষণ খোঁড়ার পর নিশার কঙ্কাল পায় ওরা। সবাই চমকে ওঠে। ফরেনসিক টীম ওখান থেকে একটা এ টি এম কার্ড পায়। কার্ড এ নাম লেখা ছিল “প্রকাশ বিশ্বাস”। পুলিশের টিম সময় নষ্ট না করে দ্রুত সুধীরকে গ্রেফতার করে। আর এস পি এর কাছে প্রকাশ বিশ্বাস কে গ্রেফতার করার জন্য ওয়ারেন্ট চেয়ে পাঠায়। কয়েকদিনের মধ্যে প্রকাশ বিশ্বাস ও গ্রেফতার হয়। আদালত দুজনের সাজা শোনায়। 

এই ঘটনার অনেক আগেই নিশার মা বাবা দুজনেই মারা গিয়েছিল। তাই সুবোধবাবুর সাহায্য নিয়ে গ্রামের সবাই মিলে নিশার অন্তো:ক্রিয়া করে। সেই দিন অনুষ্ঠানের সময়, নিশার আত্মা শেষবারের মতো উপস্থিত হয়, গ্রামবাসীদের আন্তরিকতায় তাঁর রাগ শান্ত হয়ে যায়। ভোর হতেই ফুলঝাড়ির উপর যে অস্বস্তিকর পরিবেশ ঝুলছিল তা মিলিয়ে যায়। বিকেলের দিকে জঙ্গল থেকে গ্রাম থেকে হারিয়ে যাওয়া ২০-৩০ জন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে। গ্রামবাসীরা মুক্তির অনুভূতি অনুভব করে, আর রাতের সেই ভূতের আর্তনাদ আর কখনো শোনা যায় না। গ্রামের সকলে অর্জুনকে প্রানভরে আশীর্বাদ করে। 

অর্জুন তার গবেষণা শেষ করে, এই অভিজ্ঞতায় সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়ে ফুলঝাড়ি ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু তার মনে গেঁথে যায় ক্ষমার শক্তি এবং ইতিহাসের গুরুত্ব। বছরের পর বছর অর্জুন তার গবেষণা প্রকাশ করে, লোককাহিনীকে ঐতিহাসিক সত্যের সাথে মিশিয়ে দেয়। ফুলঝাড়ি শুধু তার ঐতিহ্যের জন্যই নয়, নিশার কিংবদন্তির জন্যও পরিচিত হয়ে ওঠে, সেই আত্মা যে তার অনুতাপের মাধ্যমে শান্তি খুঁজে পেয়েছিল। এই গল্পটি প্রতারণার ফলাফল এবং ন্যায়ের অমর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি সাবধানবাণী হিসাবে কাজ করে।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!