ছেলের ফাঁকা ঘরটা যেন জাদুঘর, অতীতের সাক্ষী। এই মা কিভাবে মেনে নেবেন ছেলের বিচ্ছেদ? আর ছেলের স্বপ্নের পথে তিনি কীভাবে হবেন তার সহায়? জানতে হলে পড়ুন বাংলা ছোট গল্প, "ফাঁকা ঘরের গল্প"।

ফাঁকা ঘরের গল্প

ছেলের ফাঁকা ঘরটা যেন জাদুঘর, অতীতের সাক্ষী। এই মা কিভাবে মেনে নেবেন ছেলের বিচ্ছেদ? আর ছেলের স্বপ্নের পথে তিনি কীভাবে হবেন তার সহায়? জানতে হলে পড়ুন বাংলা ছোট গল্প, "ফাঁকা ঘরের গল্প"।

বাতাস এসে জানলার পাল-টা খুলে দিল। ঘরে ঢুকে পড়ল এক ঝাপ সন্ধ্যের আলো, আর বৃষ্টির সুর। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম ছেলের ঘরের দোরগোড়ায়। ঠিক এমনি সন্ধ্যায়, কতবার ওকে ডেকেছি, “বাইরে ঝড় লেগেছে, জানলাটা লাগিয়ে দাও!” আজ সে আর নেই, সেই ডাক শোনা যায় না আর।

এই ঘরটা – এখন যেন জাদুঘর। দেওয়ালে ঝুলছে শৈশবের ক্যানভাস – রঙিন আঁকা, আকাশ জুড়ে উড়ন্ত ড্রাগন, আর ফুলের মালায় বাঁধা গাছগুলো। এক কোণায়, সেই নীল টেডি বিয়ারটা – এক কান ছিঁড়ে, কিন্তু এখনও ছেলের কাছে অমূল্য। আশেপাশে ছড়িয়ে আছে খেলনা – একসময়ের রাজার রথ, সৈন্যের বাহিনী, সবই এখন নিঃসাড়।

এই ঘরটাই ছিল তার জগৎ। এখানে সে গড়িয়েছে গাড়ি, বানিয়েছে গল্পের রাজ্য, লড়াই করেছে কাল্পনিক শত্রুদের সাথে। আর আমি, বাইরে দাঁড়িয়ে, শুনতাম তার উচ্চস্বরে হাসি, কখনও বা কথামালার ঝংকার। সময়ের চাকা ঘুরেছে; সেই ছোট্ট ছেলেটা এখন উচ্চশিক্ষার সন্ধানে দূরে চলে গেছে। কিন্তু এই ঘরটা যেন আটকে রেখেছে তার শৈশবকে, আমার স্মৃতির পাতায় লিখে রেখেছে অজস্র মুহূর্ত।

আলগোছে হাত বাড়িয়ে নিলাম ছেলের পুরনো ডাইরিটা। প্রথম পাতায় ঢেঁকুর খাওয়া, হাসি, কান্না – সবই আঁকা। আর তার নিচে, কাঁটালেখায় লেখা – “আমি, অহিন!” আমার মুখে একটা হাসি ফুটে উঠল। কত ছোট ছিল সে ঐ সময়ে!

ভুতের বাংলা ছোট গল্প - ছবির কান্না: এক ভুতুড়ে লাইব্রেরি, অদ্ভুত বই, আর জমিদারদের অত্যাচারের গল্প -  এই রহস্যময় বাংলা ভুতের গল্পে জানুন কিভাবে এই ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচন হয়। এই লিংকটি ক্লিক করে সম্পূর্ণ বাংলা ভৌতিক ছোট গল্পটি পড়ুন

পাতা উল্টাতে উল্টাতে, স্মৃতির জোয়ার এসে ভাসিয়ে দিল। প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিন, ব্যাগটা এলোমেলো হয়ে ঝুলছে পিঠে, চোখে এক অদ্ভুত আতঙ্ক। স্কুল থেকে ফিরে এসে, গর্ব করে দেখিয়েছিল তার আঁকা ছবি – লাল রঙের একটা বড় গরু, যার মাথায় দুটো শিং। স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে গিয়েছিল গানের কথা। কতবার বকা দেওয়া, কতবার জড়িয়ে ধরা – সবকিছুই যেন কালকের ঘটনা।

এক পাতায় লেখা – “আজ বাবা আমাকে সাইকেল কিনে দিয়েছে! খুব খুশি আছি!” মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা। কত চেষ্টা করেছিল সাইকেল চালাতে, কতবার পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু হার মানেনি। শেষে, একদিন সামনের চাকাটা ঘুরতে শুরু করল ছেলে, তারপর পিছনেরটাও। সেদিন তার আনন্দ দেখে, আমার চোখেও জল এসে গিয়েছিল।

এরপরের পাতাগুলো ছিল কিশোর অহিনের লেখা। হঠাৎ করেই লেখাগুলো কমতে শুরু করল। ছবি আঁকাও আর নেই। এক পাতায় ছেলে লিখেছে – “বন্ধুরা আজকে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে। আমি যেতে পারলাম না। বাবা রাজি হলেন না।” পড়ে একটা অস্বস্তি বোধ করলাম। ছেলের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে, ঘুরতে যাওয়া – হয়তো সেই সময়টা আমি একটু বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলাম। ছেলে বড় হচ্ছে, তার নিজের জীবন, বন্ধুদের সঙ্গ – এই সবকিছুকেই কি আমি বুঝতে পারছিলাম ঠিকমতো?

পাশেই ছিল ছেলের ফটো অ্যালবাম। খুলে দেখলাম – স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানের ছবি, সহপাঠীদের সঙ্গে পিকনিকের ছবি, আর একটা ছবি – কলেজের হোস্টেলে রুমমেটদের সঙ্গে। ছেলের হাসিটা একটু বড় হয়েছে, চোখে একটা নতুন আত্মবিশ্বাসের আভা। হঠাৎ মনে হল, হয়তো ছেলেকে আর আমার ছোট্ট ছেলে বলে মনে করা ঠিক নেই। সে এখন একটা স্বাধীন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো যুবক।

অ্যালবামের এক কোণায় পেলাম একটা ছোট্ট চিঠি। ছেলের লেখা। পড়তে শুরু করলাম –

“মা, জানি তুমি আমার উপর অনেক রাগ করো কখনও কখনও। কিন্তু মা, তুমি যে আমার জন্য কতটা করেছো, তা আমি কখনও ভুলব না। তুমিই আমার সব শক্তি, তুমিই আমার সব স্বপ্ন। কলেজে এসে বুঝতে পারছি, তোমার কাছে কতটা কষ্ট ছিল আমাকে মানুষ করতে। ক্ষমা করো মা, যদি কখনও তোমাকে দুঃখ দিয়ে থাকি। তুমি সবসময় আমার পাশে থেকো, মা।”

চিঠিটা পড়ে আমার বুকটা ভরে উঠল। ছেলের এই কথাগুলো যেন আমার সব ক্লান্তি, সব অভিমান ধুয়ে মুছে দিল। ছেলে বড় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের মা-ছেলের বন্ধন এখনও অটুট।

কল্পবিজ্ঞান-এর বাংলা ছোট গল্প - শব্দ তুফান: এই কল্পবিজ্ঞান গল্পে, ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এবং 'মন্ত্রময়ী' নামক নিষিদ্ধ ভাষার মাধ্যমে মরকত অন্ধকারের রহস্য উন্মোচন করে অরিন্দম তার বোন ঐশীকে উদ্ধার করে। এই লিংকটি ক্লিক করে সম্পূর্ণ বাংলা ছোট গল্পটি পড়ুন

আশেপাশে চোখ বুলিয়ে একটা পুরনো বাক্স দেখে ফেললাম। খুলে দেখলাম, ছেলের ছোটবেলার জামাকাপড়, পুরনো খেলনা, আর কিছু আঁকা ছবি। হাতে নিলাম একটা ছোট্ট মাটির হাতি – ছেলে বছর পাঁচেক বয়সে বানিয়েছিল। হাতির সারা গায়ে রঙের ছোঁপ – ছেলের কাছে এটা নিশ্চয়ই একটা অদ্ভুত সৃষ্টি ছিল।

এই সব জিনিসগুলোকে হাতে নিয়ে মনে হল, ছেলে হয়তো দূরে চলে গেছে, কিন্তু তার ছোটবেলার স্মৃতি, তার মনের ছাপ – সবকিছুই এখানে, এই ঘরে, আমার স্মৃতির খাতায় লিখে রয়েছে। ছেলেকে মিস করব ঠিকই, কিন্তু জানি, সে তার নিজের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর আমি, একজন মা হিসেবে, সবসময় তার পাশে থাকব, তার স্বপ্নগুলোকে উড়িয়ে দেবার জন্য। এই ফাঁকা ঘরটা হয়তো আর আগের মতো থাকবে না, কিন্তু ছেলের সঙ্গে আমার বন্ধন – সেটা অটুট থাকবে, সবসময়।

দরজা আটকে দিলাম ছেলের ঘরের। জানি, একদিন সে ফিরে আসবে, হয়তো নতুন গল্প নিয়ে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে। আর আমি, সবসময়ের মতো, খোলা দুখিয়ে অপেক্ষা করব তার জন্য।

পা বাড়ালাম বারান্দায়। বৃষ্টি থেমে গেছে। আকাশে কয়েকটা তারা জ্বলজ্বল করছে। মনে হল, ছেলেকে ঠিক এই রকম রাতেই কতবার ঘুম পাড়িয়েছি, গল্প  শুনিয়েছি।

তারাগুলোর দিকে চেয়ে চেয়ে হঠাৎই মনে পড়ল ছেলেকে লেখা একটা চিঠির কথা। ছেলে কলেজে যাওয়ার আগের রাতে লিখেছিল। খুঁজে বের করলাম লেখাটা। ছেলে লিখেছিল –

“মা, জানি তুমি খুব একটা খুশি নও আমি চলে যাচ্ছি বলে। কিন্তু মা, বিশ্বাস করো, আমিও তোমাকে ছেড়ে থাকতে চাই না। তবে, আমার নিজের পথ চলা, নিজের স্বপ্ন পূরণ করা – এটাও কি আমার অধিকার নেই? মা, তুমি আমাকে সবসময় শিক্ষা দিয়েছো স্বপ্ন দেখতে, আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করতে। এখন আমার সেই লড়াইটা শুরু হচ্ছে। তুমি আমার পাশে থাকো, শুধু আশীর্বাদ দিয়ে। জানি, তোমার আশীর্বাদ থাকলে, আমি যেকোনো বাধা পার হয়ে যেতে পারব।”

চিঠিটা পড়ে আবারও চোখে জল এলো। কিন্তু এবারে সেই জলে কষ্টের চেয়ে গর্বের আভাস বেশি ছিল। ছেলে ঠিকই বলেছে। মা হিসেবে আমার কর্তব্য তাকে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করা। হয়তো সে এখন আর আমার ছোট্ট ছেলে নেই, কিন্তু সে এখনও আমার ছেলে। আর আমার ছেলে হিসেবে, তার স্বাধীনতা, তার স্বপ্নের প্রতি সম্মান জানানোও আমার দায়িত্ব। এক গভীর শ্বাস নিয়ে ছেলেকে লিখতে বসলাম। কাগজে কয়েক লাইন লিখে আবার মুছে দিলাম। ছেলেকে কী লিখব, কীভাবে বোঝাব যে আমি গর্বিত, কিন্তু একই সঙ্গে মিস করব – কথাগুলো ঠিক মতো লেখা হচ্ছিল না।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য বাংলা ছোট গল্প - নিশীথের নিশান: ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: "নিশীথের নিশান" - ১৮৭৫ সালের যশোরের বিদ্রোহের এক অমর কাহিনী। এই ঐতিহাসিক বাংলা ছোট গল্পটি পড়তে এই লিংকটি ক্লিক করুন

শেষে লিখলাম –

“আহিন,

ঠিক আছে, মা তোকে আর বাধা দেবে না। তুমি তোমার স্বপ্নের পিছনে ছুটো। কিন্তু মা যেন কখনও ভুল না যায় – তুমি যেখানেই থাকো, আমার সব ভালোবাসা, সব আশীর্বাদ সবসময় তোমার সঙ্গে থাকবে। মনে রেখো, বাড়ি ফিরে আসার ঠিকানাটা সবসময় খোলা থাকবে। ঠিক যেমন আকাশটা তারার জন্য খোলা থাকে।

ভালো থেকো,।

  • মা.”

চিঠিটা লিফটে রেখে দিলাম। জানালা দিয়ে আবার একবার চোখ বুলিয়ে দেখলাম ছেলের ঘরের দিকে। ফাঁকা ঠাকুরদালানের মতো লাগছিল। কিন্তু মনের কোণে একটা আশা জ্বলজ্বল করছিল। জানি, ছেলে ফিরে আসবে। হয়তো আজ না, হয়তো কাল না, কিন্তু একদিন ফিরে আসবে। নতুন গল্প নিয়ে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে। আর সেদিন, এই ফাঁকা ঘরটা আবার উজ্জীবিত হয়ে উঠবে, ছেলের হাসি আর কথামালার ঝংকারে ভরে উঠবে। ছেলের সঙ্গে আমার এই বন্ধন – এটা কখনো ফুরিয়ে যাবে না, সময়ের সাথে সাথে শুধু আরও গভীর হবে। এই বিশ্বাস নিয়েই, মা হিসেবে, আমি অপেক্ষায় থাকব, সবসময়।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!