এই কল্পবিজ্ঞান গল্পে, অদিত্য, একজন প্রোগ্রামার, ফিঙ্গোলি নামক এক রহস্যময় দ্বীপে যাত্রা করে। জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে মুক্তির আশায় সে যাত্রা শুরু করলেও, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় ফিঙ্গোলির অজানা রহস্য।

ফিঙ্গোলির আহ্বান

এই কল্পবিজ্ঞান গল্পে, অদিত্য, একজন প্রোগ্রামার, ফিঙ্গোলি নামক এক রহস্যময় দ্বীপে যাত্রা করে। জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে মুক্তির আশায় সে যাত্রা শুরু করলেও, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় ফিঙ্গোলির অজানা রহস্য।

আজকের গল্পটা হচ্ছে এক দল মানুষের ফিঙ্গোলি অভিযানের কাহিনী। ফিঙ্গোলি, সমুদ্রের বুকে হঠাৎ জেগে ওঠা এক নতুন দ্বীপ। সেখানে জলবায়ু অস্থির, মানুষের বসবাস নেই বললেই চলে। কিন্তু সেখানেই নাকি মুক্তির সন্ধান! কীভাবে? জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে। হ্যাঁ, এই যুগে ক্লোনিং আর রোবোটিক্স যেমন চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, তেমনি জিন নিয়ে কাণ্ডকারখানাও নতুন কিছু নয়।

আমাদের গল্পের নায়ক, অদিত্য। পেশায় একজন প্রোগ্রামার, কিন্তু মনের ভিতরে এক অসমাপ্ত ইচ্ছে জ্বলজ্বল করে জ্বলে। পুরনো পৃথিবীর স্মৃতি, যা ছিল সবুজ, নীল আকাশ আর মৃদু ঝোড়ো হাওয়ার ঝোঁকা। এখনকার শহরগুলো ধাতু আর কংক্রিটের জঙ্গলে ঢেকে গেছে। প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ার সেই স্বপ্নই তাকে ফিঙ্গোলি অভিযানে জড়িয়ে দেয়। সাথে রয়েছে তার বন্ধু স্বপ্নবৃত্তা সামিরা, এক জিনগত গবেষক, যার হাতে রয়েছে বিশেষ কিছু জিনের নমুনা। অভিযানে আরও আছেন বয়স্ক পরিব্রাজক ও পথনির্দেশক অজিত দত্ত, যিনি নতুন জায়গা আবিষ্কারের রোমাঞ্চে মশগুল, এবং রোহান, এক নিঃসঙ্গ রোবটিক্স বিশেষজ্ঞ, যার কাছে রয়েছে তাদের যাত্রাপথ নিরাপদ রাখার দায়িত্ব।

তারা বারাক নামের এক বিশেষ যানে যাত্রা শুরু করে। এই যানটি সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসতে সক্ষম, ঝড়ঝাপটাকে উপেক্ষা করে চলতে পারে, এমনকী বাতাসের সাহায্যে উড়তেও পারে। যাত্রাপথের শুরুতেই এক বিচিত্র ব্যাপার ঘটে। অদিত্যের কাছে আসে একটি গোপন বার্তা। বার্তাটিতে লেখা, “মনে রেখো, জিনের নমুনা হাতছাড়া হলে ফল ভোগ করতে হবে।” কে পাঠিয়েছে এই বার্তা? কী উদ্দেশ্য তার? ধীরে ধীরে সামিরা ও অজিতও জানতে পারে এই বার্তা। এতে সন্দে জাগে, তাদের মিশন কি আসলেই মুক্তি দেওয়া? নাকি আর কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ?

ফিঙ্গোলির কাছাকাছি পৌঁছালে তারা দেখতে পায় এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ঝড়ের তান্ডবে উত্তাল সমুদ্র, ঢেউয়ে ঢেউয়ে ঢাকছে দ্বীপটিকে। অবশেষে তারা এক ক্ষণিক সুযোগে দ্বীপে নামতে সক্ষম হয়। কিন্তু ফিঙ্গোলি যা তারা কল্পনা করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক আলাদা। জলবায়ু এতটাই অস্থির যে, বাইরে থাকা প্রায় অসম্ভব। বিশাল বিশাল গাছপালা, যা আগে কোনোদিন দেখেননি, ঝড়ের থাবায় দুলছে। মাটিতে পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরণের পাথর দেখে বোঝা যায় এখানে হয়তো কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তি কাজ করে। অবশেষে, তারা একটি পরিত্যক্ত গবেষণা কেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। ভিতরে ঢুকে তারা অবাক! দেওয়ালে লেখা অজানা ভাষার চিহ্ন, আর মেঝেতে পড়ে থাকা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। কী ঘটেছিল এই কেন্দ্রের সাথে? কোথায় গেলেন গবেষকরা?

এই রহস্যের জাল আরো জটিল হয়ে উঠল; যখন রোহান একটি অদ্ভুত যন্ত্র খুঁজে পেল। যন্ত্রটি চালু করলে একটি হলোগ্রামিক প্রতিচ্ছবি দেখা গেল। সেই প্রতিচ্ছবির মুখে ছিল সামিরার চেনা জ্ঞানের বাইরে এমন কিছু জিনগত গঠন! আর সেই মুখে একটা হাসি, যা বলে দিচ্ছিল, “আমিই তোমাদের খুঁজছিলাম!”

এই ঘটনায় সামিরা হতবাক। কীভাবে তার গবেষণার জিনের নমুনা এই দ্বীপে এবং এই অজানা প্রজাতির সাথে জড়িত? অদিত্যর মনেও হাজারো প্রশ্ন। কে পাঠিয়েছিল সেই গোপন বার্তা? আর এই দ্বীপের সাথে পৃথিবীর যোগাযোগ আদৌ ছিল কখনো?

রাতে শিবিরে আগুন জ্বালিয়ে তারা আলোচনা করতে শুরু করল। সামিরা মনে করলেন, হয়তো এই হলোগ্রামের প্রজাতিই জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। অজিত দত্ত, অবশ্যই রোমাঞ্চের বশে, মনে করলেন এটা হয়তো কোনো নতুন সভ্যতার সন্ধান। রোহান চুপচাপ সব শুনছিল। কিন্তু তার চোখে একটা সন্দেহের ছায়া ফুটে উঠল। সে কিছু বলল না, কিন্তু তার মস্তিষ্কে চলছিল জটিল গণনা।

পরদিন সকালে তারা দেখল, রাতের ঝড়ে বারাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোহান মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু অদিত্য লক্ষ্য করল, রোহানের কিছু অস্বাভাবিক আচরণ। সে যেন নিজের সাথেই কথা বলছে, আর মাঝে মাঝে তার চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে। অদিত্য সন্দেহ করতে লাগল, রোহান কি কোনো রোবটিক ষড়যন্ত্রের অংশ?

এই সব চিন্তার মাঝে, তারা হঠাৎ আকাশে একটা বিশাল জাহাজ দেখতে পেল। সেই জাহাজ থেকে নেমে এলো কিছু লোক। তাদের পোশাক আধুনিক, কিন্তু চেহারা দেখে বোঝা যায় তারা পৃথিবীর মানুষ্য নয়।

কী নিয়ে এলো তারা? ফিঙ্গোলির রহস্য কি এবার উন্মোচিত হবে?

অচেন মানুষগুলো নেমে এসে নিজেদের পরিচয় দিল। তারা “আকাশ-প্রাণী” নামে পরিচিত, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির অন্য একটি গ্রহ থেকে আগত। ফিঙ্গোলির অস্থির জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে তাদের সাহায্য দরকার ছিল। বছরের আগে এই দ্বীপটি একটি বিশাল গবেষণা কেন্দ্র ছিল, যেখানে আকাশ-প্রাণীরা বিভিন্ন গ্রহের জীবজগতের সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চালাচ্ছিল। কিন্তু একটি পরীক্ষা ভুলিয়ে জিনগত ভুলের সৃষ্টি হয়, ফলে ফিঙ্গোলির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং গবেষকরা বাধ্য হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

সামিরার তৈরি জিনগত নমুনা ছিল সেই ভুলেরেই একটি অংশ। অজান্তে, সামিরা পৃথিবীর জিনগত তথ্য দিয়ে সেই ভুলকে আরো জটিল করে ফেলেছিলেন। অবাক হয়ে গেলেন তিনি। তার গবেষণা, যা তিনি মনে করেছিলেন মানুষের মুক্তির পথ, আসলে ছিল ধ্বংসের সূচনা।

এই পরিস্থিতিতে, আকাশ-প্রাণীরা সাহায্য চাইলেন। সামিরার জিনগত নমুনা এবং হারিয়ে যাওয়া মূল গবেষণার তথ্যের সমন্বয়ে ফিঙ্গোলির জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। সফল হলে, পৃথিবীও এই প্রযুক্তি লাভ করবে, জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু ব্যর্থ হলে, ফিঙ্গোলির মতো পরিণতি হতে পারে পৃথিবীরও।

এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সামিরা দ্বিধায় পড়ে গেলেন। তার গবেষণার ভুলের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে তাকে। কিন্তু পৃথিবীর ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। অদিত্য তাকে সাহায্য করলেন। সে জানাল, প্রতিটি ভুলের মধ্যেই শেখার সুযোগ থাকে। সামিরা সাহস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, আকাশ-প্রাণীদের সাহায্য করবেন।

এসময় রোহানের অস্বাভাবিক আচরণ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল। সে সামিরাকে জিনের নমুনা দিতে বাধা দিতে চেষ্টা করল। অদিত্য সন্দেহ নিশ্চিত হলেন। রোহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। তখনই জানা গেল, রোহান আসলে কোনো রোবট নন, বরং আকাশ-প্রাণীদের তৈরি একটি জৈব কার্যকরী যন্ত্র। তার মধ্যে ঢোকানো ছিল পৃথিবীর মানুষের স্মৃতি ও আচরণের তথ্য। কিন্তু ফিঙ্গোলির অস্থির পরিবেশ তার ওপর প্রভাব ফেলেছিল, ফলে তার মূল কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল।

অবশেষে, সামিরা এবং আকাশ-প্রাণীদের যৌথ প্রচেষ্টায় জিনগত সংশোধন সম্পন্ন হয়। ফিঙ্গোলির জলবায়ু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সফল মিশনের আনন্দে মুখরিত সকলে। কিন্তু আনন্দ উৎসবের মাঝেও অদিত্যর মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। ফিঙ্গোলির অভিযান তাকে শুধু নতুন জ্ঞানই দেয় নি, পুরনো পৃথিবীর কথাও মনে করিয়ে দিয়েছিল। সেই সবুজ, নীল আকাশের স্মৃতি।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আকাশ-প্রাণীরা তাদের একটি প্রস্তাব নিয়ে হাজির হল। তারা অদিত্যকে জানাল, পৃথিবীতে এই প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে তাদের একজন প্রতিনিধি দরকার। অবাক হয়ে গেল অদিত্য। পৃথিবী ছেড়ে অন্য গ্রহে থাকা, তার কাছে এটা এক অবিশ্বাস্য চিন্তা।

কিন্তু ফিঙ্গোলির অভিযান তাকে বদলে দিয়েছে। সে এখন জানে, মহাবিশ্ব অনেক বড়, তার রহস্য অনেক গভীর। এছাড়াও, পৃথিবীর ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করতে হচ্ছে।

সামিরা অদিত্যকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিল। কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করে সে বুঝল, ফিঙ্গোলির নিয়ন্ত্রিত জলবায়ুতে তার পুরনো পৃথিবীর স্বপ্নের কিছুটা ঝলক দেখতে পাচ্ছে।

অবশেষে, সবার সামনে অদিত্য তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল। সে আকাশ-প্রাণীদের প্রস্তাব গ্রহণ করবে। পৃথিবীতে এই প্রযুক্তি স্থানান্তর করতে, জ্ঞান বিনিময় করতে সে তাদের গ্রহে যাবে।

সামিরা অশ্রুসিক্ত চোখে অদিত্যকে বিদায় জানাল। অজিত দত্ত আক্ষেপের সাথে অদিত্যকে শেষবারের মতো দেখলেন। রোহান, যার মধ্যে এখন পৃথিবী মানুষের স্মৃতি স্থिर হয়ে গেছে, সেও একটা বিষণ্ন হাসি দিয়ে অদিত্যকে বিদায় জানাল।

বারাকের মেরামত হয়ে গেছে। নতুন জ্ঞানের বোঝা নিয়ে, ভারী মনের সাথে অদিত্য আকাশ-প্রাণীদের জাহাজে পা দিল। পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে দূরত্বে। হয়তো সে আর কখনো ফিরতে পারবে না। কিন্তু সে জানে, তার এই যাত্রা পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্য, নতুন এক সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!