রহস্য রোমাঞ্চে ভরা এক বাংলা গল্প! জাদুঘরের নিষিদ্ধ প্রদর্শনী, অভিশপ্ত মূর্তি, রাতের রহস্য - সব মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই গল্পে, লেখক সত্যজিত বর্ধন জাদুঘরে আটকা পড়ে এবং জীবন্ত মূর্তির মুখোমুখি হয়। রহস্যের সমাধান করতে তার কি অভিশাপের মুখোমুখি হতে হবে? "জীবন্ত মূর্তি" - রহস্য রোমাঞ্চের এক অসাধারণ বাংলা গল্প। আজই পড়ুন!

জীবন্ত মূর্তি

রহস্য রোমাঞ্চে ভরা এক বাংলা গল্প! জাদুঘরের নিষিদ্ধ প্রদর্শনী, অভিশপ্ত মূর্তি, রাতের রহস্য - সব মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এই গল্পে, লেখক সত্যজিত বর্ধন জাদুঘরে আটকা পড়ে এবং জীবন্ত মূর্তির মুখোমুখি হয়। রহস্যের সমাধান করতে তার কি অভিশাপের মুখোমুখি হতে হবে? "জীবন্ত মূর্তি" - রহস্য রোমাঞ্চের এক অসাধারণ বাংলা গল্প। আজই পড়ুন!

কলকাতার বুকে, হুগলী নদীর তীরে, ঠিক যেন এক জাদুকরের টুপি থেকে বেরিয়ে এসেছে ঐতিহ্যের নিদর্শন – বর্ধন জাদুঘর। ঢালাও ছাদ, সাদা মার্বেলের দেওয়াল, আর প্রাচীন কিংবদন্তি বন্দী মূর্তিতে সজ্জিত এই জাদুঘর কলকাতার গর্ব। লেখক হিসেবে আমি, সত্যজিত রায়, এই জাদুঘরের নিয়মিত দর্শক। প্রতি মাসে কয়েকবার এসে এখানকার শিল্পকলা, ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে নেওয়া আমার অভ্যাস। কিন্তু আজ রাতে, যে ঘটনার সাক্ষী হলাম, তা আমার লেখালেখির জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সন্ধ্যা আকাশটা গোধূলী রঙ ধরেছে ঠিক সেই সময় জাদুঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার ঘণ্টা বাজল। নিরাপত্তা কর্মীরা দর্শকদের বেরিয়ে যেতে তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু, আজ আমার একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে থেকেই কথা ছিল, তাঁরা রাতে একটি নতুন প্রদর্শনীর আয়োজন করছেন, সেটা দেখার অনুমতি চেয়েছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমার অনুরোধ রাখলেন, তাই একজন নিরাপত্তা কর্মী, সঞ্জীব, আমাকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরের ভেতরে গেলেন।

প্রদর্শনীটি ছিল মোঘল আমলের অলংকৃত অস্ত্রশস্ত্রের। ঝলমলে কাঠের খাপে সাজানো ছিল বাঁকানো কটারি, তলোয়ার, আর ঢাল। প্রতিটি অস্ত্রের গায়ে ঝলমল করছিল সোনা, রুপো আর রত্নের জল। সঞ্জীব আমাকে বিভিন্ন অস্ত্রের ইতিহাস জানালেন। হঠাৎ, একটা জোরে ধামা শব্দ। আমরা দু’জনেই চমকে উঠলাম। শব্দটা এল কোথা থেকে? জাদুঘরের ভেতর তো আর কেউ নেই!

সঞ্জীব আমাকে জাদুঘরের মূল হলে না যেতে বলে জলদি দিক নির্ণয় করতে লাগলেন। শব্দটা আবার এল, আরও জোরে। এবার মনে হল শব্দটা এসেছে মিশরীয় মমি সংরক্ষিত ওই কালো কাপড়ে ঢাকা কক্ষ থেকে। সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে গেলাম আমরা। কালো কাপড়ের সামনে এসে সঞ্জীব টর্চ জ্বালালেন। কাপড় সরিয়ে দেখা গেল, কাচের কফিনের ভেতর শুয়ে থাকা মমিটি আর নেই! কফিনটা খালি!

আমাদের মাথার উপর দিয়ে যেন ঠান্ডা এক ঝাপটা বাতাস বয়ে গেল। সঞ্জীব চেঁচিয়ে উঠলেন, “কী এটা?” ঠিক সেই সময় আবার সেই ধামা শব্দ, এবার আরও জোরে। এবার মনে হল শব্দটা আসছে ঠিক আমাদের পাশ থেকে!

চারপাশে তাকিয়ে দেখি, মিশরীয় দেবতা আনুবিসের একটি কালো মূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে। আনুবিসের কালো পাথরের মূর্তিটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে! চোখ দুটো দু’টি লাল আগুন জ্বলছে। সারা গায়ে কাঁপতে শুরু করলাম। সঞ্জীবের হাত থেকে টর্চটা খসে পড়ে গেল। চারপাশে অন্ধকার। মূর্তিটা আরও কাছে এল।

আচমকা, একটা চিৎকার শব্দ। সঞ্জীব! চোখের কোণে একটা ঝলমিলানি দেখে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। সামনেই দেখি, সঞ্জীব মূর্তির পায়ের কাছে পড়ে আছেন। হাতটা বাড়িয়ে দেখি, তাঁর কাঁধে একটা গভীর ক্ষত, আর ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছে।

ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু চিৎকার আটকে গেল গলায়। আনুবিসের মূর্তিটা এখন ঠিক আমার সামনে। লাল চোখ দুটো আমার দিকে স্থिर। কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।

এমন সময়, মূর্তিটা হঠাৎ থামল। লাল চোখ দুটো নিভে গেল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলার মতো শব্দ হল জাদুঘরের ভেতর। মূর্তিটা আবার নিথর, কালো পাথরের মূর্তিতে পরিণত হল।

কিছুক্ষণ নিশ্চেষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। সঞ্জীবের অবস্থা দেখতে হল। কিন্তু, চারপাশে এত অন্ধকার, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। হাত দিয়ে সামনে টানতে শুরু করলাম। হঠাৎ হাতে লাগল একটা ঠান্ডা, ধাতব জিনিস। সঞ্জীবের টর্চটা! এটা ধরে জ্বালিয়ে দেখি, সঞ্জীব এখনও অজ্ঞান।

কী করা উচিত বুঝতে পারছিলাম না। জাদুঘরের বাইরে যেতে হলে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। সঞ্জীবকে এভাবে ফেলে যেতে পারি না। একটা সিদ্ধান্ত নিতে হল।

সঞ্জীবের গা থেকে জামার একটা কাপড় ছিড়ে নিলাম। সেই কাপড়টা দিয়ে তাঁর ক্ষতটা কিছুটা বেঁধে দিলাম। জানি, এতে কাজ হবে না, কিন্তু আর কোনও উপায় ছিল না।

এরপর, সঞ্জীবকে কো কোনোভাবে জড়িয়ে নিজের পিঠে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু একা হাতে একটা বড়ো মানুষকে তোলা খুব কঠিন। ঠিক সেই সময়, আবার সেই ধামা শব্দ! এবার আওয়াজটা এল ঠিক আমার কানের কাছে।

চারপাশে চোখ বুলিয়েও কিছু দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু, বুঝতে পারছিলাম, ‘কিছু’ আমার খুব কাছেই আছে। আরও ভয় পেয়ে গেলাম। সঞ্জীবকে নিয়ে ছুটতে শুরু করলাম। কোথায় যাচ্ছি, জানি না। কিন্তু এখানে থাকা আর সম্ভব ছিল না।

অনেকটা দৌঁড়ানোর পর, হঠাৎ একটা দরজা দেখতে পেলাম। দরজ

দরজাটা খোলা ছিল। টর্চের আলোয় দেখলাম, এটা কোনও প্রদর্শনী রুম না, বরং জাদুঘরের কাজের জায়গার মতো লাগছে। দেওয়ালে টাঙানো নানা রকমের হাতিয়ার, আর মাঝখানে একটা বড়ো টেবিল। টেবিলের উপরে কয়েকটা ফাইল আর কম্পিউটার ছিল।

জানি না কেন, মনে হল এই ঘরেই নিরাপদ থাকব। সঞ্জীবকে টেবিলের পাশে শুইয়ে দিলাম। তাঁর ক্ষতটা আবার দেখলাম, রক্তপাত কমেনি। চিন্তায় পড়ে গেলাম। নিজের ফোনটা বের করলাম কিন্তু, নেটওয়ার্ক নেই!

একটা জিনিস বুঝলাম, এখনই পুলিশ কিংবা জাদুঘরের অন্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব নয়। নিজেই কিছু করতে হবে।

টেবিলের উপর থাকা ফাইলগুলো ঘাঁটতে শুরু করলাম। হঠাৎ, একটা ফাইলের নাম চোখে পড়ল – ‘নিষিদ্ধ প্রদর্শনী’। কৌতূহল আর ভয়ে মিশ্রিত একটা অনুভূতি হল। এই ফাইলটা খুলে দেখা উচিত কিনা, দ্বিধায় পড়ে গেলাম। কিন্তু, এখন আর কোনও উপায় ছিল না।

ফাইলটা খুলতেই দেখি, এর মধ্যে রয়েছে কিছু মিশরীয় মূর্তির ছবি। আর লেখা আছে, এই মূর্তিগুলো প্রাচীন অভিশাপে আক্রান্ত, তাই এগুলোকে সাধারণ দর্শকদের চোখের আড়ালে রাখা হয়।

আমার রক্ত জমে গেল। ঠিক যে মূর্তিটা আমাদের আক্রমণ করেছিল, সেই আনুবিসের মূর্তির ছবিও ছিল ফাইলের মধ্যে। আর লেখা ছিল, এই মূর্তিটির সামনে রাতের বেলায় কেউ একা না যায়, কারণ অভিশাপের কারণে এটি জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

সবটা বুঝতে পারলাম। সঞ্জীবের অজ্ঞান হয়ে পড়ার কারণটাও বুঝলাম। মূর্তিটির স্পর্শেই তিনি আহত হয়েছেন। কিন্তু, এখন কী করা উচিত?

ফাইলের শেষ পাতায় একটা নাম্বার দেওয়া ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে এই নাম্বারে ফোন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু, আমার ফোনে নেটওয়ার্ক নেই।

এমন সময়, টেবিলের উপর থাকা কম্পিউটারটা চোখে পড়ল। হয়তো এটা চালু করা যায়। ট্রাই করে দেখলাম, কম্পিউটারটা জ্বলে উঠল! আশা জাগল মনে।

কিছুক্ষণ ঘাঁটতে থাকলাম। অবশেষে, ইন্টারনেটের সংযোগ পেয়ে গেলাম। ফাইলের মধ্যে দেওয়া নাম্বারে ফোন দিলাম। কয়েকটা রিংয়ের পর, ওপাশ থেকে একটা গম্ভীর গলা শোনা গেল, “কে?”

আমি নিজের পরিচয় দিয়ে, যা ঘটেছে সবটা জানালাম। গলার স্বরে একটা অবাক

অবাক চমক জড়ানো কণ্ঠস্বরে ওপাশ থেকে জানা গেল, “আপনি কি জানেন, এই বিভাগটা বছরের কয়েকটা নির্দিষ্ট দিন ছাড়া খোলা থাকে না? আর, নিষিদ্ধ প্রদর্শনীর কক্ষগুলো তো সব সময়ই লক করা থাকে!”

আমি কিছুটা রুদ্ধশ্বাসে বললাম, “কিন্তু, আমি এখানে আছি। আর, সঞ্জীব, জাদুঘরের নিরাপত্তা কর্মী, তিনি আহত।”

একটু থামার পর, ওপাশ থেকে বলা হল, “আপনি সেখানে থাকুন। আমি একজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু, মনে রাখবেন, এই ঘটনা কারো কাছে প্রকাশ করতে পারবেন না।”

আমি রাজি হয়ে গেলাম। করারও তো আর কিছু ছিল না।

এরপর, একঘন্টা যে দীর্ঘ মনে হল, তা বর্ণনা করা যায় না। সঞ্জীবের অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। ফাইলটা আবার ঘাঁটতে শুরু করলাম। মিশরীয় অভিশাপ নিয়ে লেখা কিছু জিনিস চোখে পড়ল। কিছু কিছু ঘরে থাকা প্রতীকের অর্থ, কিভাবে মন্ত্র জপ করে অভিশাপ মুক্তি পাওয়া যায় – এই সব লেখা পড়ে মাথাটা ঘুরে গেল।

এমন সময়, দূরে সাইরেনের আওয়াজ শোনা গেল। একটু পরে দরজা খুলে ঢোকার শব্দ। টর্চের আলোয় দেখি, দু’জন লোক ঢুকেছে। তাঁদের গায়ে কালো পোশাক, আর হাতে বিশেষ ধরণের কিছু যন্ত্র।

তাঁরা সঞ্জীবকে পরীক্ষা করে জানালেন, তাঁর অবস্থা গুরুতর, তবে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বাঁচানো যাবে।

আমাকে নিয়ে বের হওয়ার সময়, একজন লোক আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি ভাগ্যবান, ঠিক সময়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন।”

আমি কিছু বলতে পারলাম না। জাদুঘরের নির silent নিশ্চেত চারপাশে পা বাড়িয়ে বেরিয়ে এলাম। পুলিশের গাড়ি,

পুলিশের গাড়ি, – সবকিছুই স্বপ্নের মতো লাগছিল। হাসপাতালে সঞ্জীবকে ভর্তি করানোর পর, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হল।

নিজের অভিজ্ঞতাগুলো বিস্তারিত জানালাম। জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের লোকজনও এসেছিলেন। তাঁরা আমাকে জানালেন, ‘নিষিদ্ধ প্রদর্শনী’র বিষয়টি একটি গোপনীয় তথ্য, এমনকী অনেক নিরাপত্তা কর্মীও এ বিষয়ে অবগত নন।

কিন্তু, প্রশ্ন থেকেই গেল – কীভাবে আমি সেই নিষিদ্ধ কক্ষে ঢুকে পড়লাম? আর, সঞ্জীবের অজ্ঞান হয়ে পড়ার কারণটা কি?

পুলিশের তদন্ত চলতে থাকল। কয়েকদিন পর, জানা গেল, সঞ্জীবকে আহত করা কোনো অভিশাপ ছিল না। বরং, জাদুঘরের ভেতরেই একটি চোরের ঘরে ঢুকে পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের কাছে ছিল একটি বিশেষ যন্ত্র, যা আলোর সাহায্যে কিছু মূর্তিকে জীবন্তের মতো দেখায়।

সেদিন রাতেও তেমনটাই হয়েছিল। চোরেরা নিষিদ্ধ প্রদর্শনী কক্ষে ঢুকে পড়েছিল, এবং মিশরীয় মমি চুরি করার চেষ্টা করছিল। সঞ্জীব তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করলে, চোরেরা তাকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।

আমার ক্ষেত্রে, হয়তো ভুলক্রমে কোনো গোপন দরজা দিয়ে আমি নিষিদ্ধ প্রদর্শনী কক্ষে ঢুকে পড়েছিলাম। চোরেরা হয়তো মনে করেছিল, আমি তাদের সহযোগী। তাই, সন্দে দূর করতেই জীবন্ত মূর্তির নাটক সাজিয়েছিল।

সব ঠিকঠাক মিলে গেল। তবে, একটা প্রশ্ন থেকেই গেল – সেই রাতে জাদুঘরের ভেতরে কীভাবে ঢুকেছিলাম? সঞ্জীব তো নিশ্চিত জানতেন, জাদুঘর বন্ধ হয়ে গেছে।

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আর কোনোদিন জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম না। হয়তো কিছু গোপনীয়তা রয়ে গেলই ভালো। কিন্তু, সেই রাতের রোঁদন, সেই জীবন্ত মূর্তির দৃশ্য – এগুলো আমার স্মৃতিতে চিরকাল বিরাজ করবে।

বছর দুয়েক কেটে গেল। সেই রাতের ঘটনার কথা চেপে রাখার চেষ্টা করলেও, লেখকের মনের কোণে একটা খাঁজ লেগেই রয়ে গেল। বিশেষ করে, জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে করা শেষ দেখাটা খটকা লাগছিল। তাঁদের চোখে এক অদ্ভুত গোপনীয়তা লুকিয়ে ছিল, যেন আরও কিছু বলতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না।

একদিন, সকালের খবরে ঝাঁকিয়ে গেল সত্যজিত। বর্ধন জাদুঘরে আবারও চুরির চেষ্টা! এবারের লক্ষ্য – সেই বিখ্যাত পান্না জহর! পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেল, চোরেরা আবারও কোনো অতি আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বাইপাস করেছে। কিন্তু, কিছু অদ্ভুত দিকও চোখে পড়ল। পুলিশ জানাল, চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, নিরাপত্তা ক্যামেরায় কিছু অস্বাভাবিক দৃশ্য ধরা পড়েছে। ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, জাদুঘরের কয়েকটা মূর্তি যেন কাঁপছে, আর চোরের দিকে এগিয়ে আসছে!

খবর পড়ার পর, সত্যজিতের হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। সেই রাতের অভিজ্ঞতা যেন আবারো জীবন্ত হয়ে উঠল। মনে মনে ভাবল, হয়তো পুলিশকে সাহায্য করা উচিত। কিন্তু, জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কিছু গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যেতে পারে, সেই চিন্তাও তাকে আটকে দিল।

কিন্তু, নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া অস্বাভাবিক দৃশ্যের কথা ভাবতে ভাবতেই একটা চমকপ্রদ আইডিয়া মাথায় এলো সত্যজিতের। সেই রাতে জাদুঘরের নিষিদ্ধ প্রদর্শনী কক্ষে পাওয়া ফাইলের কথা মনে পড়ল। সেই ফাইলে মিশরীয় অভিশাপ নিয়ে কিছু প্রতীকের অর্থ দেওয়া ছিল। হয়তো সেই প্রতীকগুলোর সঙ্গে পুলিশের দেখা অস্বাভাবিক দৃশ্যের কোনো মিল আছে!

সত্যজিত দের না করে জাতীয় জাদুঘরের এক বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ ফাইলের কপি দেখে অবাক হয়ে গেলেন। তিনি জানালেন, এই প্রতীকগুলো প্রাচীন মিশরীয়দের ‘জাগানোর মন্ত্র’ সংবর্ধিত। এই মন্ত্র জপ করলে, কিছু বিশেষ মূর্তিকে অস্থায়ীভাবে জীবন্ত করা যায়।

এই তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দিলেন সত্যজিত। পুলিশের তদন্তে নতুন মোড় ঘটল। জানা গেল, চোরের দলটির সঙ্গে একজন প্রত্নতত্ত্ববিদও জড়িত ছিলেন। সেই প্রত্নতত্ত্ববিদই এই ‘জাগানোর মন্ত্র’ জানতেন, এবং চুরির চেষ্টায় সাহায্য করছিলেন। কিন্তু, মনে হয় মন্ত্রটির পুরোপ

মনে হয় মন্ত্রটির পুরোপুরি পাঠ করা হয়নি, বা কোনো ভুল হয়েছে। ফলে, মূর্তিগুলো চোরদের আক্রমণ না করে, উল্টো তাড়া করে ছেঁড়াছিড়ি করে দিয়েছে।

এই ঘটনার পর, জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনা হল। ‘নিষিদ্ধ প্রদর্শনী’ কক্ষগুলো আরও দৃঢ়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হল। জাতীয় জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ববিদ সত্যজিতের সাহায্যের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানালেন। কিন্তু, সেই রাতের অভিজ্ঞতা এখনও সত্যজিতের গল্পের অনুপ্রেরণা জোগায়। মাঝে মাঝে, রাতের নীরবতায়, বর্ধন জাদুঘরের দেওয়ালের ভেতর থেকে যেন আবার শোনা যায় সেই ধামা শব্দ – এক ভয়ঙ্কর রহস্যের স্মৃতিচিহ্ন।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!