কলকাতার ব্যস্ত রেলস্টেশনে শুরু হয় রিয়া ও অমিতের অবিশ্বাস্য প্রেমের গল্প। শেষ ট্রেনের জার্নিতে ভাগ করে নেওয়া স্মৃতি, গোপন আকাঙ্ক্ষা আর অদম্য মিলনের টানে জড়িয়ে পড়ে তারা। এক বছর পর ফিরবে কি অমিত? জানতে পড়ুন এই রোমান্টিক বাংলা গল্প, "কলকাতার শেষ ট্রেন "।

কলকাতার শেষ ট্রেন

কলকাতার ব্যস্ত রেলস্টেশনে শুরু হয় রিয়া ও অমিতের অবিশ্বাস্য প্রেমের গল্প। শেষ ট্রেনের জার্নিতে ভাগ করে নেওয়া স্মৃতি, গোপন আকাঙ্ক্ষা আর অদম্য মিলনের টানে জড়িয়ে পড়ে তারা। এক বছর পর ফিরবে কি অমিত? জানতে পড়ুন এই রোমান্টিক বাংলা গল্প, "কলকাতার শেষ ট্রেন "।

কলকাতার ব্যস্ত রেলস্টেশন। চারদিকে যাত্রীদের হৈ চৈ, কুলিদের চিৎকার, আর ট্রেনের বাঁশির স্বরে মিশে যাওয়া কোলাহল। রিয়া বসু, এক তরুণী সাংবাদিকা, বিদেশে কাটিয়ে আসা কয়েক বছর পরে ফিরছিলেন নিজের শহরে। মনের কোণে এক অদ্ভুত ক্ষোভ আর মিষ্টি স্বস্তি মিশে ছিল।

একটি কাম্পার্টমেন্টে ঢুকে রিয়া চমকে উঠলেন। জানলার ধারে একজন অপরিচিত যুবক বসে আছেন। চোখে এক অদ্ভুত স্বপ্নের জল, আর মুখে এক মৃদু হাসি। রহস্যময় এই যুবকের নাম অমিত চট্টোপাধ্যায়।

ট্রেন ছেড়ে দিল। রাতের নীল আকাশে ঝলমলে তারা দেখে দু’জনেই এক অন্য দুনিয়ায় হারিয়ে গেলেন। ছেলেবেলার স্মৃতি জাগলো মনে। কলকাতার রাস্তা, স্কুলের টিফিনের গন্ধ, আর পুজোর আলো – সবকিছুই যেন হঠাৎ করেই স্পষ্ট হয়ে উঠল। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলেন, অমিতও ছেলেবেলা কাটিয়েছেন কলকাতায়। আরো কয়েকটা জায়গার নাম উঠলো – বড়বাজার, হাওড়া সেতু, আর ঠাকুরবাড়ির পুকুর। অবাক হয়ে গেলেন রিয়া। এইসব স্থান তো তারও ছেলেবেলার স্মৃতির অংশ!

রাত গভীর হতে থাকল। ট্রেনের ঝমঝম কাঁপুনি আর চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া নাচের সাথে দু’জনের গল্প চলতে থাকল। অমিত তার স্বপ্নের কথা বললেন – একদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর। রিয়া শোনালেন নিজের লেখালেখির আকাঙ্ক্ষা – মানুষের গল্প লিখে পৃথিবীকে জানানোর। একে অপরের স্বপ্ন শুনতে শুনতে হঠাৎ করেই মনে হল, কোথায় যেন এক অদ্ভুত যোগাযোগ।

ট্রেনের যাত্রাপথ মধ‍্যে হঠাৎ করেই থেমে গেল। একটা ছোট্ট গ্রামের স্টেশন। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলেন, চারদিকে সরষে ক্ষেত। নেমে দেখা গেল, স্টেশনটা প্রায় জনশূন্য। অমিত জানালেন, এটা তার ছেলেবেলার গ্রাম। রিয়াও নামলেন তার সাথে। সন্ধ্যের নরম আলোয় হেঁটে চললেন দু’জনে। পুরনো, ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি আর গ্রামের রাস্তার মাটির গন্ধে ম ম ম মিশে গেল অদ্ভুত এক স্বস্তি।

পুনর্বার যাত্রা শুরু হল ট্রেনের। রাতের অন্ধকারে, ট্রেনের ছাদে বসে তারা দেখল আকাশজুড়ে ছোটা ছোট তারা। কথার ফাঁকে ফাঁকে গল্প জমলো রিয়ার ঠাকুমার – আনিমা বসুর। কীভাবে ঠাকুমা তার দাদুকে ভালোবাসার কথা গোপন করেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি তাঁদের আলাদা করে দিয়েছিল। রিয়া অমিতের হাত ধরে ফেললেন, চোখে অশ্রু। “আমি কি আমার ঠাকুমার মতো হব না?”

অমিত তার হাত চেপে ধরলেন। “না, রিয়া। তুমি তোমার নিজের গল্প লিখবে।” তার চোখেও এক ঝলক আবেগ দেখা গেল। “আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে চাই না। কিন্তু এখন আমারও কিছু স্বপ্ন পূরণ করতে হবে।”

প্লাটফর্ম-এর আলোয় ট্রেন ঢুকলো আর একটা অপরিচিত স্টেশনে। নামকরা চা বাগানের এলাকা। রিয়া চমকে উঠলেন। এ তো তার বাবার জন্মস্থান! অমিত হাসলেন। “কী মজা! যেন আমাদের গল্পেরই একটা অংশ এটা।”

দু’জনে নেমে গেলেন। সকালের রোদের ঝলকানিতে, সবুজ চা গাছের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে তাঁদের গল্প আরো গভীর হল। শেখালেন অমিত তার ছবি তোলার শখের কথা। রিয়া শোনালেন তার লেখালেখির নতুন আইডিয়া – দুই অপরিচিত মানুষের ট্রেনের জার্নি আর তার মধ্যে জন্ম নেওয়া ভালোবাসার গল্প।

কয়েক ঘণ্টা পর ট্রেন আবার ছেড়ে দিল। সন্ধ্যা নামার আগেই কলকাতা পৌঁছাবে। দু’জনের মনে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। একদিকে মিলনের আনন্দ, অন্যদিকে বিচ্ছেদের বেদনা।

ট্রেনের যাত্রীরা ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেন। রিয়া উঠে পড়লেন। অমিতও উঠলেন, কিন্তু ট্রেনের দোরগোড়ায় থামলেন।

“এক বছর পর, এই একই সময়ে, এই একই স্টেশনে ফিরব?” রিয়া জিজ্ঞাসা করলেন, কণ্ঠ ভারী।

অমিত হাসলেন। “আমি থাকব। তুমি তোমার গল্প লিখে ফিরো।”

ট্রেন ছেড়ে দিল। রিয়া জানালার ধারে দাঁড়িয়ে অমিতকে দেখলেন। তার হাতে ছিল একগুচ্ছ গাঁদাফুল। ট্রেনের দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে ক্ষীণ হয়ে গেল তার ছায়া।

এক বছর কেটে গেল। রিয়ার লেখা বইটি প্রকাশিত হল। “শেষ ট্রেন কলকাতার” – সারা দেশে সাড়া ফেলল। কিন্তু রিয়ার মনে কেবলই অমিতের কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল।

ফের এক বছরের শেষ দিন। আবার সেই একই স্টেশন। রিয়া দুশ্চিন্তায় ছটফট করছিলেন। ট্রেন আসছে, মানুষ নামছে, কিন্তু অমিত নেই।

ঠিক যখন আশা হারাতে বসছেন, তখনই দূর থেকে একটা চেহারা দেখা গেল। অমিত। হাতে আরো একগুচ্ছ গাঁদাফুল।

রিয়া ছুটে গেলেন তার দিকে। “আমাকে অপেক্ষা করতে দিলে না কেন?”

অমিত হাসলেন। “দেখো, আমি তো থাকলাম। তবে জানো, এই এক বছরে আমি কতটা ছবি তুললাম? কতটা জায়গা ঘুরে এলাম, সেগুলো সব তোমাকে দেখাতে হবে!”

দু’জনে হাত ধরে স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে এলেন। কলকাতার রাতের আকাশ জ্বলজ্বল ছিল তারাগুলোয়। রিয়া চারদিকে তাকিয়ে বললেন, “এই শহরেই তো আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল।”

অমিত তাঁর চোখে চোখ রেখে বললেন, “এই শহরেই হোক তাহলে আমাদের গল্পের নতুন অধ্যায়ের শুরু।”

রিয়া হাসলেন। তাঁদের দু’জনের সামনে ছিল দীর্ঘ জীবন,

রাতের বাতাসে লেগেছিল গাঁদাফুলের মিষ্টি সুবাস। হাতে হাত রেখে তারা হাঁটতে শুরু করলেন। কলকাতার রাস্তার হলুদ আলোয় তাঁদের দু’টি ছায়া একাকার হয়ে গেল। যাত্রাপথের শেষ নেই, ঠিক যেমন ভালোবাসার গল্পেরও শেষ নেই। রিয়া এবং অমিতের গল্প ঠিক এই শেষ ট্রেনের জার্নির মতোই চলতে থাকল, নতুন গন্তব্য, নতুন অভিজ্ঞতা, আর নতুন গল্প নিয়ে।

এই রকম চিত্তাকর্ষক বাংলা ছোট গল্প -এর আপডেট পেতে আমাদের WhatsApp চ্যানেল জয়েন করুন।

নতুন বাংলা ছোট গল্প

প্রতিদ্বন্দ্বী

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

মোটিভেশনাল বাংলা ছোট গল্প - প্রতিদ্বন্দ্বী, সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত জীবন যুদ্ধের দুই যোদ্ধার একদিনের জীবন সংগ্রামের ঘটনা। সম্পুর্ন্য বাংলা অনুপ্রেরণামূলক ছোট গল্পটি পড়ুন।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: প্রতিদ্বন্দ্বী

শেষ জমিদারের মেয়ে

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঐতিহাসিক কথাসাহিত্য গল্প: এক জমিদার কন্যার গল্প, যে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর নিজের পায়ে দাঁড়ায় এবং গ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: শেষ জমিদারের মেয়ে

স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

শিউলি, এক গ্রামের মেয়ে, তার অসাধারণ গানের প্রতিভা দিয়ে সকলকে মুগ্ধ করে। কিন্তু খ্যাতির পথে তাকে অতিক্রম করতে হয় অনেক বাধা। এই অনুপ্রেরণামূলক গল্পে দেখুন কীভাবে সে তার স্বপ্ন পূরণ করে এবং সকলের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

সম্পুর্ন্য গল্পটি পড়ুন: স্বপ্নের রূপে ঝঙ্কার

Leave a Comment

অনুলিপি নিষিদ্ধ!